মধ্যপ্র্যাচের দেশ ইরাক ও সিরিয়ায় ৮৫টির বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সিরিয়ার চারটি এবং ইরাকের তিনটি এলাকা। স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশ দুটিতে ৩০ মিনিট ধরে হামলাগুলো চালানো হয়। খবর রয়টার্সের।
হামলা লক্ষ্য বানানো হয়েছে কুদস ফোর্সকে যারা সিরিয়া ও ইরাকে থাকা আইআরজিসির এলিট বাহিনী। এরা ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন ও সিরিয়া জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিলিশিয়াকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর স্থাপনায় এসব হামলা হয়েছে।
এই হামলায় দূরপাল্লার বি-ওয়ান বোমারু যুদ্ধবিমান অংশ নেয়, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়িয়ে নেওয়া হয়।
গত রোববার (২৮ জানুয়ারি) জর্ডানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে সিরিয়া ও ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত ও ৪০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জঙ্গিদের ওই হামলার প্রতি প্রেসিডেন্ট জো বিডেনের সরকারের এটি প্রথম প্রতিক্রিয়া বলে দেখা হচ্ছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলাটি ইরানের ভূখণ্ডকে সরাসরি লক্ষ্য করে করেনি। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোয় এমন হামলা আরও হতে পারে।
হামলার পর হোয়াইট হাউজ যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমকে জানায়, তারা হামলাটিকে সফল হিসেবে দেখছেন এবং পুরো হামলায় সময় লেগেছে ৩০ মিনিট।
হামলার মধ্যে মার্কিন বাহিনী সাতটি অবস্থানে ৮৫টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। যার মধ্যে চারটি সিরিয়ায় এবং তিনটি ইরাকে ছিলো।
ইউএস জয়েন্ট স্টাফের ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডগলাস সিমস বলেছেন, হামলাটি সফল হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। মার্কিন বোমাগুলো জঙ্গিদের অস্ত্রে আঘাত আনায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। কিন্তু কোনো জঙ্গি নিহত হয়েছে কিনা বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না।
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বলেন, আজ থেকে আমাদের জবাব দেওয়া শুরু হয়েছে। এটি আমাদের পছন্দমতো বিভিন্ন সময় ও স্থানে চলতে থাকবে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া শুক্রবার বলেছে, মরুভূমি অঞ্চলে সাইটগুলোতে ‘আমেরিকান আগ্রাসন’ এর কারণে সিরিয়া-ইরাকি সীমান্তে বহুসংখ্যক লোক হতাহত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরাকি সামরিক বাহিনী বলেছে, হামলাগুলো ইরাকি সীমান্ত এলাকায় ছিলো। এ ঘটনায় এইসব অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
ইরাকি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া রসুল এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই বিমান হামলাগুলো ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন করেছে। ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে এবং এমন একটি হুমকি তৈরি করেছে যা ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে মারাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তিন মাসেরও বেশি পুরনো গাজার ফিলিস্তিনি হামাস ও ইসরাইলের যুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার পরিমাণও অনেক বেড়েছে।
বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর এই পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে আবারও ড্রোন হামলা
ইরাক ও সিরিয়ায় সিরিজ মার্কিন হামলার অনুমোদন