দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে দলে-দলে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্যরা। প্রতিদিনই এভাবে দেশটির সেনা থেকে শুরু করে সরকারি কর্তা আশ্রয় নিচ্ছে প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশে। অস্ত্র জমা রাখছেন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে। এসব মানুষের জায়গা হচ্ছে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজিবি ক্যাম্পে। তাদের অবস্থা এখন ঢাল নেই তলোয়ার নেই নীধিরাম সর্দারের মতো।
আর এসব দৃশ্য দেখলেই অন্তত এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী যে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তা ঐতিহাসিক। জান্তা শাসকদের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখছে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। আর বলা হচ্ছে, মিয়ানমারে কর্তৃত্ববাদ বিরোধী যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে তা সফল।
দেশটিতে আগের গণতন্ত্র আন্দোলনের থেকেও বর্তমান চলমান প্রতিরোধ আরও ভয়ঙ্কর ও তীব্র। যে কোন এই প্রতিরোধ রূপ নিতে পারে জাতীয় অভ্যুত্থানে। এটি শুধুমাত্র কিছুসংখ্যক বিদ্রোহী নয়, বরং সবগুলো বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও ভিন্নমতবাদ শ্রেণীতে ছড়িয়ে পড়েছে, যারা জান্তা উৎখাতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। আর এটিই বিদ্রোহীদের মনোবলকে চাঙ্গা রাখছে। সে কারণেই কোন প্রকার কাঠামোগত বাধা এবং কোন আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়াই সফল হচ্ছে বিদ্রোহীরা।
বিভিন্ন সংস্থার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, টানা দুই বছর ধরে ছোট ছোট সফলতা পাওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে অভিযান পরিচালনা শুরু করে বিদ্রোহীরা। যা এখন জান্তা সরকারের শাসনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
গত অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি জান্তা সেনা নিহত বা আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে আছে ১০ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলও। ৩০টির বেশি শহর দখলে নিয়েছে প্রতিরোধ বাহিনী। সব মিলিয়ে অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ত্রিশ হাজারের মতো সেনা হারিয়েছে জান্তা সরকার। যেখানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীতে সেনার সংখ্যা মাত্র দেড় লাখ।
পাশাপাশি সামরিক বাহিনী প্রতিদিনই পরাজয়ের মুখে পড়ছে। দখলকৃত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পেতেও ব্যর্থ হচ্ছে তারা। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারাচ্ছে জান্তা। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জান্তার বিরুদ্ধে জনগণকে আরও প্রতিবাদী করে তুলছে।
শুধু তাই নয়, ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের সময়ও দেশটির অনেক অঞ্চল দখলে নেয় বিদ্রোহীরা। যাদের বলা হতো জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মূলত এই প্রতিরোধ আন্দোলনের নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর জান্তা সরকারের অত্যাচার। সাধারণ মানুষ আর বিদ্রোহীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের আগুনই ঐতিহাসিক ভাঙনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারকে।