পশ্চিমবঙ্গে সি‌এএ’র অন্তর্ভুক্ত না হলেই গ্রেপ্তার, রাজ্যজুড়ে গড়ে উঠছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যটির বিজেপি সরকার। এসব ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ সন্দেহভাজনদের আটক করে ৩০ দিন রাখা যাবে। 

অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃতরা তো বটেই, যারা এর আগে ধরা পড়েছিলেন এবং বন্দি ছিলেন, যাদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাদেরও সেখানে রাখা যাবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

এদিকে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ পালন করেনি। তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে। 

সি‌এএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন যারা, এ বার তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে। সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে। বিএসএফ তাদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে। 

শুভেন্দুর ঘোষণার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও নির্দেশিকা জারি হয়েছে। 

নবান্নের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের যারা এ রাজ্যে বেআইনিভাবে বসবাস করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। জেলাগুলোতে তার জন্য হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং এ রাজ্যের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদের রাখার জন্য এই সমস্ত সেন্টার ব্যবহার করা হবে। সেন্টার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

নবান্ন থেকে এই নির্দেশিকা গিয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি, প্রত্যেক জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে। কলকাতাসহ প্রত্যেক পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারদেরও এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে একটি আট পাতার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। তাতে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কথাও বলা হয়েছিল। 

কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন বলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী আধিকারিকদের সন্দেহ হলে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে। ৩০ দিনের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ আটকে রাখা যাবে। ৩০ দিনের মধ্যে নথিপত্র খতিয়ে দেখে তিনি আদৌ ভারতীয় কিনা, তা যাচাই করতে হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।

অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ‘ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (মুছে দেওয়া) এবং ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো)’ নীতি নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তা কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বিশদ বলা আছে। 

অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রতি রাজ্যে জেলা ধরে ধরে পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গঠন করতে বলেছে কেন্দ্র। যারা ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হবেন, তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রের পোর্টালে আপলোড করতে হবে। তারপর তাদের তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে। অভিযুক্তদের ভারতে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করে দেওয়া হবে। 

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীকে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ থেকেই তুলে নিয়ে যেতে পারে সীমান্তরক্ষী বা উপকূলরক্ষী বাহিনী। সরাসরি তাদের দেশের সীমান্তের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

আরবিএস
রাজধানী কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোর মফস্বল শহর থেকে গ্রামের দুর্গা পুজাগুলো কার্যত থিম মন্ডপের আড়ম্বর দেখা যায়। রাজ্যটির সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সকলে পুজার রীতি মেনে অঞ্জলিতে অংশ না নিলেও...
ভারতের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার পারদ! সৌজন্যে- জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা এবং তার একটি বিস্ফোরক ভিডিও। সাক্ষাৎকারের একটি ক্লিপে নেহাকে বলতে শোনা গেছে, ভারতের...
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও প্রকাশ্যে এলো চরম উত্তেজনার দৃশ্য। হুগলিতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষের গাড়িতে ডিম ও পাথর ছুড়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে একদল...
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই নাটকীয় রাজনৈতিক মোড়! সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার...
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
বিতর্ক ও সমালোচনার জেরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেছেন, দল তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেনি, বরং তিনি নিজে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি...
ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে...
নানা নাটকীয়তা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে পৌঁছেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর