পাকিস্তানে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন দেশটির ক্রিকেটের এক সময়ের বরপুত্র ইমরান খান। সে সময় ভোটে ইমরানকে জিতিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী, এমন অভিযোগ উঠেছিল। বলা হয়, নির্বাচনে কে জিতবে তা, পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছিল সেনাবাহিনী।
তবে নির্বাচন শেষে দ্রুত বদলাতে থাকে দৃশ্যপট। চার বছর ক্ষমতায় থাকার সময়ে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অন্যতম মিত্র আমেরিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান ইমরান খান। এর জেরে নানা কূটচালের মধ্যে ক্ষমতা ছাড়তে হয় ইমরানকে। একাধিক মামলায় জড়ানো হয় তাকে, যেতে হয়েছে কারাগারে।
বৈরি স্রোতের মধ্যে থেকেই গেল আট ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাজিমাৎ করেন ইমরান খানই। তার মনোনীত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি শতাধিক আসনে জিতে নেয়। তবে, ভোটের মাঠে কোন দলই একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, আবারও বড় সংকটে পড়েছে পাকিস্তান।
যদিও গুঞ্জন উঠেছে, ইমরান ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেন-দরবার করছে পিটিআই। জিও নিউজ জানাচ্ছে, পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার গওহর খান দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান ও কারাগারে আটক অন্যান্য নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্যে আহবান জানিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনিরের এক বক্তব্যের পরই এই আহবান জানান পিটিআই নেতা।
রোববার এক বিবৃতিতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য পাকিস্তানের জনগণকে ধন্যবাদ জানান জেনারেল অসিম মুনির। সব গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে ঐক্যের সরকার গঠনের ডাক দেন তিনি। সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের পরই গওহর খান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অর্থ হলো দেশে কোনে রাজনৈতিক বন্দি না থাকা।
তিনি আরও জানান, পিটিআইয়ের ম্যান্ডেটকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে দেশের কোনো রাজনৈতিক শান্তি আসবে না। এর মানে জোট সরকার নয়। সমন্বিত সরকার বলতে, প্রতিটি দলকে একটি বিষয়ে একমত হতে হবে যে তারা জনগণের ম্যান্ডেটকে সবার আগে সম্মান করবে।
এদিকে নির্বাচনে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সরকার গঠন। চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে জোট গঠন না হলে, পাকিস্তানের ক্ষমতায় আবারও সেনাবাহিনীর হাতে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বহু বিশ্লেষক।