প্যারোলে মুক্ত থাকসিন সিনাওয়াত্রা

থাইল্যান্ডের সাজা পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ছয় মাস হাসপাতালে বন্দী থাকার পর প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন।

ধনকুবের সিনাওয়াত্রা রোববার মৃক্তি পেয়েছেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ১৫ বছর স্বেচ্ছা-নির্বাসন কাটিয়ে গত বছর দেশে ফেরার পর তাকে কারাবন্দি করা হয়েছিলো।

এর আগে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় ৭৪ বছর বয়সী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে। অবশ্য থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন তার সাজার মেয়াদ কমিয়ে এক বছর করেন।

তবে স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ দেখিয়ে একরাতও কারাগারে কাটাননি থাকসিন। ছয় মাস বিলাসবহুল হাসপাতালে কাটিয়ে এখন প্যারোলে মুক্তি পেলেন।

এখন থাইল্যান্ডের ক্ষমতায় মসনদে রয়েছে প্রভাবশালী এই বিলিয়নেয়ারের পরিবারের দল ‘ফেউ থাই পার্টি’, স্বভাবতই তার মুক্তিতে দলীয় প্রভাবের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

আর থাইল্যান্ডে মামলার ক্ষেত্রে ধনী ও ক্ষমতাবানদের প্রায়ই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় বলে সাধারণ নাগরিকরা মনে করেন।

শনিবার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সেরেথা থাভাইসিন বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী, রোববার তেকে থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে মুক্তি দেয়া হবে।

যদিও বয়স ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় থাকসিন প্যারোলের যোগ্য, তবে এই মুক্তির পিছনে কোনো শর্ত বা নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা তা তারা পরিষ্কার করেননি।

Thaksin with his daughter

থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে বলা হয় থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সফল নির্বাচিত নেতা। দেশটির ইতিহাসে থাকসিন ছিলেন প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, যিনি পূর্ণ মেয়াদে সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আর তিনি হয়ে উঠেছিলেন রক্ষণশীল রাজতন্ত্রের ভয়ের বিষয়।

২০০১ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন থাকসিন। পরে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। এরপর ২০০৮ সালে থেকে তিনি দেশের বাইরে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।

নির্বাসনের বছরগুলিতে তিনি বেশিরভাগ সময় লন্ডন বা দুবাইতে কাটিয়েছেন। ২০০৭ সালে তিনি ইংলিশ ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি কিনে হৈচৈ ফেলে দেন। এরি মধ্যে ২০১১ তেকে ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা।

গত বছরের ২২ আগস্ট স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে ব্যক্তিগত বিমানে করে থাইল্যান্ডে অবতরণ করার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।