ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান গণহত্যা এখনই বন্ধ হলেও, এ যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য সংকটে আগামী ছয় মাসে আরও প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একদল গবেষক।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের স্বাধীন গবেষকদের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
তারা বলছেন, গাজায় লড়াই চলতে থাকলে কিংবা বেড়ে গেলে ট্রমাটিক (বেদনাদায়ক) ইনজুরিতে বাড়তি মানুষের মৃত্যু হবে। পাশাপাশি অপুষ্টি, কলেরার মতো সংক্রামক রোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগে যত্নের সহজলভ্যতার অভাবে হাজারও মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে রোগ ছড়িয়ে পড়লে অগাস্টের শুরু নাগাদ মোটামুটি ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা যেতে পারে এমনটাও আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।
অন্যদিকে ট্রমাটিক ইনজুরিতে মারা যেতে পারে প্রায় ৬৯ হাজার গাজাবাসী।
এছাড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে একই সময়ে আরও প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মানুষ মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘ বলছে, প্রায় চার মাস ধরে চলা ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ৮০ শতাংশ বাসিন্দাই এখন বাস্তুচ্যুত। এই পরিস্থিতিতে, ফিলিস্তিনিদের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর ত্রাণ সহায়তা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহবান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেরেদোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা যেন ‘নরক’।
গাজায় বর্তমানে প্রচণ্ড ক্ষুধার পরিস্থিতি বিরাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাফা চেক পয়েন্টের আশপাশে অহেতুক দেরি করার কারণে মানুষের মধ্যে খাবার পৌঁছে দিতে দেরি হচ্ছে। এটি গাজার মানুষের চরম হতাশার কথা তুলে ধরে, যারা প্রচণ্ড ক্ষুধাসহ নারকীয় পরিস্থিতিতে বাস করছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ত্রাণ না পেলে ফেব্রুয়ারিতে চরম মানবিক সংকটে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় তাদের ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল।
এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়াও আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।