মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে দেশটির বিদ্রোহীরা। রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহীদের সাথে চলমান লড়াইয়ে পরাজয় বুঝতে পেরে সেনাদের প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে জান্তা বাহিনী।
মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহীদের হাতে মার খাওার পর রাখাইন রাজ্যের দক্ষিণে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বাড়িয়েছে জান্তারা।
এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি (এএ) বলছে, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় মাইবোন শহরের দু'টি পাহাড়ি ঘাঁটি থেকে সেনাদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নিয়েছে সরকার। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সেনাদের দক্ষিণাঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে সেনা সরানোর আগে সামরিক ফাঁড়ি ও পাহাড়ি ঘাঁটি পুড়িয়ে দিয়েছে তারা।

এছাড়াও ফাঁড়ির ভেতরে নিজেদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং কামানও ধ্বংস করেছে জান্তারা। কেবল বহন করতে পারে, এমন সব অস্ত্রই তারা নিয়ে গেছে।
মিয়ানমারের জান্তা-বিরোধি তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের যুদ্ধে হারছে জান্তার সেনাবাহিনী।

এর আগে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অং সান সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ৪১২ আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয় পায়। কিন্তু অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এরপর ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে তাদের নিপীড়ন-নির্যাতন ও হামলায় অন্তত সাড়ে চার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে। জান্তা বাহিনীর নৃশংস হামলায় মিয়ানমার জুড়ে অন্তত ৭৮ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আরাকান আর্মিসহ দেশটির একাধিক গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
পতনের মুখে রাখাইন, পালাচ্ছে জান্তা সেনারা
মিয়ানমারে সংঘাতের মধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি জান্তার