স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহরের একটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ জন। এছাড়াও এক শিশু ও ছয় দমকলকর্মীসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪ জন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভ্যালেন্সিয়ার ক্যাম্পানার এলাকায় একটি ১৪ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে পাশের একটি ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এরইমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন স্থানীয় দমকল কর্মীরা। তারা ওই অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের বারান্দা দিয়ে মানুষকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ধারণা, ভবনটিতে অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ থাকার কারণেই এমনতা হয়েছে।
বিল্ডিংটির ম্যানেজারের বরাত দিয়ে স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পাইস বলেছে, পুড়ে যাওয়া ভবনটিতে ১৩৮টি ফ্ল্যাট ছিলো আর সেগুলোতে ৪৫০ মানুষ বসবাস করতো।
ভ্যালেন্সিয়ার মেয়র মারিয়া হোসে কাতালা জানান, এখনও ৯ থেকে ১৫ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন দমকল কর্মীরা।
এদিকে ২০ জনের বেশি দমকল কর্মীর কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পরে আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শুক্রবার ভোররাতের দিকেই ভবনটি একটি বিশাল আগুনে পোড়া এক কাঠামোতে পরিণত হয়। এই এলাকা থেকে লোকজনকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
ঘটনাস্থলের কাছে একটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। আগুনের কারণে ঘরহারা লোকজনকে স্থানীয় হোটেলগুলোতে রাখা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দমকলকর্মীরা ক্রেন ব্যবহার করে বেশ কয়েকজন বাসিন্দাকে উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে সপ্তম তলায় থাকা এক দম্পতিও রয়েছে।
ভবনটি তৃতীয় তলার এক বাসিন্দা জানান, পঞ্চম তলায় আগুন লাগার পর তা ১০ মিনিটের মধ্যে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
একজন নারী স্প্যানিশ গণমাধ্যম টেলিভিশন এস্পানোলাকে (টিভিই) জানান, দমকলকর্মীরা বিল্ডিংয়ের প্রথম তলায় আটকে পড়া একটি কিশোর ছেলেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছিলো।
২০০৮-২০০৯ সালে নির্মিত ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে এখন প্রশ্ন উঠছে সবার।
ভ্যালেন্সিয়ার কলেজ অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসথার পুচাদেস স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইফেইকে বলেছেন, তিনি আগেও ওই ভবনটি পরিদর্শন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ভবনটির বাইরের অংশে একটি পলিউরেথেন উপাদান রয়েছে, যা দ্রুত আগুন লাগার কারণে আর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয় না। পাশাপাশি ভবনটিতে অ্যালুমিনিয়ামের আবরণও রয়েছে। এই ধরনের ক্ল্যাডিংয়ের কারণেই বিল্ডিংটি এত দ্রুত পুড়ে গেছে।
এর আগে ২০১৭ সালের ‘লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে ট্র্যাজেডি’ ঘটে এই ক্ল্যাডিংকের কারণে। সেই সময় ক্ল্যাডিংকের জন্য আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই আগুন ৭২ জন মারা গিয়েছিল।