২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এই দুই বছরে দেশ হিসেবে ইউক্রেন ও ইউক্রেনীয় জাতিকেই নির্মূলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো। নিহত হয়েছেন শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ। যুদ্ধ এখনই থেমে গেলেও ক্ষত কাটিয়ে উঠতে কয়েক দশক সময় লাগবে ইউক্রেনের। কারণ শুধু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে দরকার প্রায় ৪৯ হাজার কোটি ডলার।
ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই বুচা ও ইরপিন শহর থেকে পিছু হটছে রুশ সেনারা। তবে, বিশ্ব সাক্ষী হয়েছে রুশ সেনাবাহিনীর ভয়ংকর বর্বরতার। সে সময় বুচার রাস্তায় ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সন্ধান পাওয়া গেছে গণকবরের। এছাড়া যৌন সহিংসতা, শিশু অপহরণসহ বিভিন্ন অপকর্মের চিত্রও উঠে এসেছে।
যুদ্ধের দুই বছরে ইউক্রেনের মানুষের ওপর দিয়ে এক বিধ্বংসী ঝড় বয়ে গেছে। জাতিসংঘের তথ্য বলছে, রুশ আগ্রাসনে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক শিশুসহ অন্তত ১০ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি।
এছাড়া, ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এরমধ্যে অন্তত ৬৫ লাখ মানুষ অন্য দেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে। ১০ লাখ শিশুসহ ৪০ লাখ মানুষ দেশের ভেতরেই উদ্বাস্তু রয়েছেন। সবমিলিয়ে এবছর প্রায় দেড় কোটি ইউক্রেনীয়র সহায়তা প্রয়োজন।
তবে এই দুই বছর অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অবকাঠামোগত পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের জন্য পরবর্তী দশকে অন্তত ৪৮ হাজার ছয়'শ কোটি ডলার প্রয়োজন। সব বিভাগে শুধু ধ্বংসস্তূপ বা বর্জ্য সরানো বা ব্যবস্থাপনা খাতেই খরচ হবে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার।
একই সাথে ইউক্রেনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোও প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় বছরেই ইউক্রেনে অন্তত সাড়ে তিন'শ কোটি ডলারের সাংস্কৃতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত ১০ বছর লেগে যাবে। আর খরচ হবে নয়'শ কোটি ডলার।
ইউক্রেনের যে পরিমাণ সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, দেশটি এখন সেটা পাচ্ছে না। এর বিপরীতে যুদ্ধকালে রাশিয়া সম্মুখসমরের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে মোট জাতীয় বাজেটের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে।
রাশিয়ার এই আক্রমণ ইউক্রেনের মানুষের কাছে এক জীবন্ত বাস্তবতা। কারণ এখনও তাদের যুদ্ধের সাইরেনের শব্দে ঘুম ভাঙে। চোখের সামনে তারা শত শত মানুষকে মরতে আর জখম হতে দেখছে। প্রতিটি দিন তারা এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে কাটাচ্ছে।