পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রথমবারের মতো নারী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কন্যা মরিয়ম নওয়াজ। দেশটির ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন কোনো নারী। মরিয়ম পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট।
সোমবার পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএমএল-এনের মরিয়ম নওয়াজ ২২০ ভোট পেয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার পাঞ্জাব পরিষদের স্পিকার মালিক আহমেদ খান এ ফল ঘোষণা করেন।
পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে পিএমএল-এনের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মরিয়ম। মরিয়মের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইমরান খানের দলের জোট সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের (এসআইসি) প্রার্থী রানা আফতাব আহমাদ। কিন্তু এসআইসি ভোট বর্জন করায় তিনি কোনো ভোট পাননি। মরিয়ম ২২০ জন এমপির ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলিতে তার বিজয়ী বক্তৃতায় বলেন, রাজনীতিক হিসেবে যাত্রাপথে আমি গ্রেপ্তার হয়েছি। আমার বাবা গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমি মাকে হারিয়েছি। তবুও আমার মধ্যে প্রতিশোধের কোনো মনোভাব নেই।
এর আগে গেলো ৮ ফেব্রুয়ারি নানা নাটকীয়তা ও সহিংসতার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভোটে এককভাবে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন ইমরান খানের দল পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্ররা।
পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্ররা অপ্রত্যাশিতভাবে ৯৩ আসন জিতেছে। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য তাদের যথেষ্ট আসন ছিলো না। অন্যদিকে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৫ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ আসনে জয় পায়।
মোট ২৬৬টি আসনের মধ্যে এককভাবে সরকার গঠনে কোনো এক দল বা জোটের প্রয়োজন ১৩৪টি আসন। ইতিমধ্যে জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে পিএমএল-এন ও পিপিপি।