গাজার ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংস করছে ইসরাইলি বাহিনী

গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী শুধুমাত্র মানুষের উপরই হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে না। পাশাপাশি তারা একটি জাতির সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করে দিচ্ছে। গাজায় এখন পর্যন্ত ২শ’ টিরও বেশি ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংস করেছে ইসরাইল বাহিনী। মসজিদ ,গির্জার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।

পাঁচ হাজার বছর ধরে সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় স্তরে স্তরে গড়ে উঠেছে আজকের গাজা উপত্যকা। একেকটি যুগ অতিক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই যুগের মানুষরা রেখে গেছে তাদের মসজিদ, গির্জা, মঠ, প্রাসাদসহ মূল্যবান স্থাপত্য।

গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইল সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে গাজায় শত শত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। নিমিষেই গুড়িয়ে দিয়েছে প্রায় ২০০ ঐতিহ্যবাহী স্থান।

গাজা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, সেনাবাহিনীর হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো ফিনিশিয়ান এবং রোমান যুগের, অন্যগুলো ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১,৪০০ সালের মধ্যেকার।

গাজার পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয় অনুমান করেছে, ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ১শ'৪টি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাজা শহরের উসমান বিন কাশকার মসজিদ। যেটা ১২২০ সালে নির্মিত হয়েছিল। বিশ্বাস করা হয় সেখানে নবী মুহাম্মদের প্রপিতামহকে সমাধিস্থ করা হয়েছে।

gaza1

এই তালিকায় রয়েছে গাজার সাইয়েদ-আল-মসজিদ। বিখ্যাত এই মসজিদটি ১২শ’ শতকে নির্মিত হয়েছিল। যাকে ১৮৫০ সালে আবার পুনর্নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অক্টোবরের একটি বিমান হামলার পর মসজিদটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার পুরাতন শহরে চুনাপাথরের নির্মিত এই মসজিদটি ফিলিস্তিনিদের কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

এছাড়া ঐতিহ্য ও ধর্মীয় দিক থেকে গাজাবাসীর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রেট ওসমানি মসজিদ । আরবি ভাষায় যার নাম আল মসজিদ আল ওমারি আল কাবির। মসজিদটি আজ থেকে প্রায় ১৪শ’ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইল সামরিক বাহিনীর হামলায় তা এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক আদালত আইসিজেতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আনা দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকগুলো অভিযোগের একটি গাজার মানুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা।

gaza2

সম্প্রতি জেনেভা-ভিত্তিক অধিকার গোষ্ঠী ইউরো-মেড মনিটর বলেছে যে, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে অবরুদ্ধ গাজায় প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ধ্বংস করেছে এবং এটি ‘স্পষ্টভাবে ফিলিস্তিনি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লক্ষ্যবস্তু’ করার অভিযোগ করেছে।