অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইসরাইলে হামলা থেকে বিরত থাকবে বলে জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র ইসলামী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একইসঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি।
মঙ্গলবার পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক নেতা মঙ্গলবার রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘হামাস যে মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুমোদন করবে, সেই মুহূর্ত থেকে এই প্রস্তাব ও হামাসের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে (লেবাননের) দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সামরিক অপারেশন থামিয়ে দেবো। এর আগের বারের বিরতির সময়ও আমরা এমন করেছিলাম।’
এদিকে, গাজায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি।
সোমবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুতির মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম বলেন, ‘যদি সত্যিই গাজায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়, তাহলে আমরও লোহিত সাগরে আমাদের অপারেশন স্থগিতের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব।’
তবে, হিজবুল্লাহর আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, ‘হামাস যদি যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়, তাহলে আমরা ইসরাইলে হামলা বন্ধ করব। কিন্তু যুদ্ধবিরতির সুযোগে যদি আইডিএফ লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখে, তাহলে বাধ্য হয়েই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে আমাদের।’
গত সপ্তাহে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বৈঠক করেছেন ইসরায়েল, কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। সেই বৈঠক শেষে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস এবং ইসরাইলি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মিসর ও কাতারের কর্মকর্তারা।
সেই বৈঠকেই হামাসকে ৪০ দিন যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ কাতার ও মিসর, যা হামাসের নেতারা পর্যালোচনা করছেন।
বিষয়টির সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়, প্রস্তাবিত এই খসড়ায় ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে গাজার হাসপাতাল, রুটি-বিস্কুট-কেক তৈরির কারখানা পুনর্গঠন ও নির্মাণ, প্রতিদিন উপত্যকায় ত্রাণবাহী ৫০০টি ট্রাকের প্রবেশ এবং গৃহহীন ফিলিস্তিনিদের জন্য কয়েক হাজার তাঁবু পাঠানোর মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসবের পরিবর্তে নিজেদের কাছে থাকা জিম্মিদের মধ্যে থেকে নারী, ১৯ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী, পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি এবং অসুস্থ- এমন ৪০ জন জিম্মিকে হামাস মুক্তি দিবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
গত ৭ অক্টোবর গাজায় হামাস ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরদিন থেকে হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত থেকে ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিনই রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে হিজবুল্লাহ। ওদিকে, হামাসকে সমর্থন জানিয়ে ইয়েমেন উপকূলে গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেনের জাহাজগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এতে লোহিত সাগরের এ রুটে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মার্স্ক, সিএমএ ও সিজিএমসহ বড় বড় শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলো।
