ইসরাইলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে গাজার অনেক শহর। বাসিন্দারা ফিরে এসে চিনতে পারছেন না নিজেদের এলাকা। খুঁজে পাচ্ছেন না কোথায় ছিলো কার বাড়ি। চরম মানবেতর পরিস্থিতিতেও মাতৃভূমির প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা মলিন হয়নি একটুও।
গাজা সিটির জয়তুন জেলার বাসিন্দা ইউসুফ আল আরাফাত এক ঘণ্টারও বেশি সময় খোঁজাখুঁজির পর চিনতে পারেন তার বাড়িটা। ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় পুরোপুরি ধসে গেছে তার ঘর। আশপাশের সব ভবনেরও একই দশা।
স্থানীয় এই বাসিন্দা জানান, তাদের পুরো এলাকাই মাটির সাথে মিশে গেছে।
ইউসুফ বলেন, আমি নিশ্চিত, এই এলাকার কোন বাসিন্দাই এখন আর ফিরে এসে নিজেদের বাড়ির জায়গাটা খুঁজে পাবে না।
পথে পথে মরে পড়ে আছে কুকুর, বিড়াল, গবাদি পশু, বাতাসে সেগুলোর পচে যাওয়া গন্ধ। জ্বলে গেছে গাছপালা।
জেনেভা কনভেনশনে উল্লেখ রয়েছে যেকোনো সংঘাতে বেসামরিকদের রক্ষা করার কথা। তারা কোনোকিছুই ছাড়ছে না। ইসরাইল গাজায় প্রাণের অস্তিত্বই শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করছে। আর পুরো আরব বিশ্ব আর মুসলিম সম্প্রদায় তাতে কিছুই করতে পারছে না, আর না করার চেষ্টা করছে।
পকেটে পকেটে ঘুরছে চাবি, কিন্তু নিখোঁজ সেগুলোর তালা। উড়ে গেছে দরজা, অস্তিত্ব নেই বাড়িরই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই এক টুকরো লোহা আর কোন কাজে আসবে না। কিন্তু এটাই আমার আর সন্তানদের স্বপ্নের শেষ স্মৃতি।
দীর্ঘ যুদ্ধে গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে বেরিয়েছেন একের পর এক এলাকা। পথে হারিয়েছে কতো কি! কিন্তু এখনও যত্নেই আছে অতীত হয়ে যাওয়া বাড়ির চাবি।
এক বাসিন্দা তার সাথে থাকা ঘরের চাবি দেখিয়ে বলেন, এই চাবি আমার ঘামের, কঠোর পরিশ্রমের, দীর্ঘ প্রতীক্ষার, তিলে তিলে এক করা অর্থে বানানো বাড়ির। এটার দিকে তাকিয়ে কতো স্মৃতি যে মনে ভাসে। আমার জন্মভূমির, আমার মাটির।
ত্রাণ নেয়া নিয়ে গাজাজুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। গেলো কয়েকদিনে একাধিকবার ত্রাণের লাইনে ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালানোর পর এখন না খেয়ে মরবে নাকি ত্রাণ নিতে গিয়ে, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে গাজার বাসিন্দারা।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেন বলেন, ক্ষুধার্ত মানুষজনকে ত্রাণের লোভ দেখিয়ে রাস্তায় ডেকে এনে মারছে ইসরাইলিরা। তাহলে ত্রাণই বা নিতে যাবো কোন সাহসে? আবার সন্তানদের না খেয়ে মরতে দেখছি। কি করে সহ্য করি?