ইরানি বন্দরে ৩৫ মিলিয়ন বিনিয়োগ করলো তালেবান

আফগানিস্তান! একটা সময় ছিলো যখন এই দেশটির নাম সমীহের সঙ্গে উচ্চারিত হতো। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণ, এখন আফগানিস্তানের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্ষুধা, দারিদ্র ও যুদ্ধাহত এক জাতির ছবি। অর্থনৈতিক সংকটে দিশেহারা একটি দেশ।

২০২১ সালে দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট। এরপর থেকেই ক্ষমতা দখল করে আফগানিস্তান শাসন করছেন তালেবান সরকার। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা নানা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অর্থনৈতিক অবস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে তারা। এরই মধ্যে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে তালেবান সরকার।

অর্থনৈতিক বিনির্মাণে তালেবান সরকারে একের পর এক সাফল্যে দিশেহারা বিশ্ব। প্রতিনিয়তই আসছে দিচ্ছে অবিশ্বাস্য সব খবর। যা দেখে চোখ কপালে উঠছে বিশ্বের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের। এবার আরও একটি চমক দেখালো দেশটি। বিদেশে বিনিয়োগের পথে হাঁটতে শুরু করে আফগানিস্তান।

এবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর চাবাহারে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিউজসাইট মিডল ইস্ট আই ও ইরানের গণমাধ্যমগুলো বলছে, সম্প্রতি ইরান সফর করেছে তালেবান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল।

iran1

এ সময় উভয় দেশের মাঝে একটি অর্থনৈতিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। সেখানে তালেবান সরকার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর চাবাহারে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার কথা রয়েছে। গেলো বছর হিরমান্দ নদীর পানি বণ্টন নিয়ে তেহরান-কাবুল টানাপোড়েনের মাঝে এমন একটি চুক্তি অনেককেই অবাক করেছে।

ইরানের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বলছে, এই টানাপোড়েন এড়িয়েই ইরানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী তালেবান। তারা চাবাহার বন্দর এবং চাবাহারমুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাণিজ্যিক, আবাসিক এবং সরকারি প্রকল্পগুলোতে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়।

এই চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইরানি সরকারি প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে আফগান ব্যবসায়ীরা। আফগান বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বিনিয়োগের লক্ষ্য হচ্ছে, তাদের ল্যান্ডলকড দেশকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশের পথ প্রশস্ত করা।

iran2

এদিকে, আফগানিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত হাসান কাজেমি কওমি ঘোষণা করেছেন, ভারত ও চীনের মধ্য দিয়ে একটি ট্রানজিট করিডোর খোলার জন্য এক সাথে কাজ করছে দুই দেশ। শুধু তাই নয় আফগানিস্তানকে বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময়ী দেশ হিসেবে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইরান আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তালেবান ক্ষমতায় এলে তেহরান দূতাবাস চালু করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়নি তেহরান। তাহলে নতুন বিনিয়োগ কি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জট খুলে দিচ্ছে, সময়ই বলে দেবে এমন প্রশ্নের উত্তর।