দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন আসিফ আলি জারদারি। দেশটির জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে ভোটাভুটিতে জয়ী হয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) এ নেতা। এদিন ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের (এসআইসি) প্রার্থী মাহমুদ খান আকাজাইকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন জারদারি।
পাকিস্তানভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক ডন ও জিও নিউজের প্রতিবেদনে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পিপিপি জোটের প্রার্থী আসিফ আলি জারদারি পেয়েছেন সর্বমোট ৪১১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এসআইসি প্রার্থী আকাজাই পেয়েছেন মাত্র ১৮১ ভোট।
এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জারদারি। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি বেসামরিক লোক থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় আসিফ আলি জারদারিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তার ছেলে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি।
এদিকে পরাজিত প্রার্থী মাহমুদ খান আকাজাই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।
ইসলামাবাদে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের সবচেয়ে অস্বাভাবিক বিষয় ছিলো যে, এবারই প্রথমবার কোনো ভোট কেনাবেচা হয়নি।
পাকিস্তানে কিছু লোক আছে যারা মনে করে যে পাকিস্তানে সবকিছু কেনাবেচা করা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের কেনা যায় এবং যাদের যায় না, তাদের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে।
এসময় তাকে সমর্থন করার জন্য পিটিআই নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আকাজাই।
এর আগে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও নানা নাটকীয়তার পর দেশটির ২৪তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শাহবাজ শরিফ। নির্বাচনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির সমর্থিত প্রার্থী ওমর আইয়ুব খানকে পরাজিত করেন।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ সহিংসতার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভোটে এককভাবে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন ইমরান খানের দল পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্ররা।
পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্ররা অপ্রত্যাশিতভাবে ৯৩ আসন জিতেছে। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য তাদের যথেষ্ট আসন ছিলো না। অন্যদিকে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৫ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ আসনে জয় পায়।
গেলো মাসে একাধিকবার আলোচনায় বসার পর দেশটিতে নতুন সরকার গঠনে চুক্তিতে পৌঁছায় নওয়াজ-শাহবাজের পিএমএল-এন এবং বিলওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি। এ ব্যাপারে দুই দলের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা চুক্তি হয়।