প্রতিদিন হৃদয় ভেঙে যায় যে মানুষটির

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম

গাজা উপত্যকাজুড়ে এখন শুধু মৃত্যু পর মৃত্যু, আর ধ্বংসলীলা। মানুষের গা শিউরে উঠলেও বিশ্বনেতাদের মুখে কুলুপ। যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলছে টালবাহানা। ছয় মাস পার হওয়া যুদ্ধের বলি ত্রিশ হাজার পেরিয়ে গেছে বেশ আগেই, তারপরও ইসরাইলি হায়েনাদের আগ্রাসী মনোভাবে কমতি নেই কোন।

প্রতিনিয়ত হামলার পরিধি বাড়িয়েই চলেছে নেতানিয়াহুর লেলিয়ে দেয়া সেনারা। সামনেই রমজান। পবিত্র এই মাসে ইসরাইলের দোসর আমেরিকাও চাইছে শান্তি, কিন্তু কে শুনে কার কথা। ইসরাইল কী চায়, তা বোধহয় তারাও জানে না। গাজাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে বোধহয় থামবে না এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

মৃত্যু মিছিল, দুর্ভিক্ষ, চিকিৎসা ও ওষুধের অভাব কোনও কিছুই বোধহয় দাগ কাটছে না ইসরাইল সরকারের হৃদয়ে। শান্তি যেন সেখানে এক দূরতর দ্বীপ। যে কোনও মুহূর্তে ইসরাইলি গুলি ভেদ করে যাবে শরীর, বোমার টুকরো এসে ছিন্নভিন্ন করে দেবে হাত-পা-মাথা, তার জন্যই যেন দিন গুনছে গাজার মানুষ।

গাজার এমন কোনও জায়গা বেঁচে নেই, যেখানে গিয়ে মাথা লুকোতে পারে ফিলিস্তিনিরা। প্রতিদিন মারা যান হাজার হাজার মানুষ। নারী-শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউ বাঁচতে পারছেন না ইসরাইলি হামলা থেকে। প্রতিদিন শতসহস্র মানুষের মৃতদেহ জমছে এদিকে ওদিকে। গণকবর রচিত হচ্ছে প্রতিদিন সমগ্র গাজাজুড়ে।

৬৪ বছরের সাদি হাসান সুলেমান বারাকা। স্থানীয় লোকেরা তাকে ডাকেন আবু জাওয়াদ নামে। তিনি গাজার মানুষের বেহেস্তে যাওয়ার দূত। তার হাতেই দাফন হয় এলাকার সব মৃত মানুষের। গত কয়েক দশক ধরে এটাই তার পেশায়। মৃতদেহ নিয়েই কাজ আবু জাওয়াদের। তবু এই মৃতদেহ যেন সে মৃতদেহ নয়।

এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। ঈশ্বরের মমের বিরুদ্ধ এই মৃত্যু, যা লিখে দেয় কোনও ইসরাইলি সেনা তার নিষ্ঠুর বন্দুক বা বোমা হাতে। এ সব কথাই দিনরাত ভাবতে থাকেন জাওয়াদ। ঘুম আসে না তার। গেলো সাতই অক্টোবর থেকেই তাই তিনি ভালো করে ঘুমাতেও পারেন না।

মধ্য গাজার শরণার্থী শিবিরের প্রথম বাসিন্দা জাওয়াদ। আগে স্ত্রী ও শতবর্ষী মায়ের সঙ্গে থাকতেন দেইর এল-বালাহ এলাকারই একটি ছোট্ট বাড়িতে। মৃত্যু নিয়েই তাঁর কাজ। অথচ এলাকায় কী দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন জাওয়াদ। সবাই ভালোবাসতেন হাসিখুশি সহজ সরল এই মানুষটিকে।

গেলো ছয় মাসেই তার ওজন কমে গেছে প্রায় ৩০ কেজি। শীর্ণ হতে এতো দেহ কবর দিয়েছেন তিনি, যে গুনে শেষ করতে পারবেন না। তার মধ্যে কেউ তার কাছের মানুষ, কেউ তার পড়শি। যে খুদে শিশুটিকে কালই খেলে বেড়াতে দেখেছেন, বোমায় ছিন্নভিন্ন সেই শিশু নিথর দেহ মাটির তলায় শুইয়ে দিতে হয়েছে।

গত ২৭ বছরে যে পরিমাণ শবদেহকে কবর দিয়েছেন জাওয়াদ, গত পাঁচ মাসে তার দশগুণ দেহ সৎকার করতে হয়েছে তাকে। গাজা এখন গণকবর। কোনও একটি বিশেষ জায়গা বা এলাকা নয়, গোটা গাজাই যেন এক সমাধিক্ষেত্র। একসঙ্গে তিরিশটি-চল্লিশটি করে দেহ কবর দিতে হয় জাফরকে।

হিসেব বলছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে কমপক্ষে ১৭ হাজার দেহকে কবর দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন সমাধিক্ষেত্র ভরে ওঠে মৃতদেহের মিছিলে। প্রতিদিন স্বজনকে নিয়ে সেখানে হাজির হন মানুষ। কান্নার কলরোলে ভেসে যায় মাটি। ভোর থেকে সন্ধে, জাওয়াদ কবর খোঁড়েন। কফিন বানান, জানাজা প্রস্তুত করেন।

মৃত শরীরগুলোর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেন সজল হৃদয়ে। যুদ্ধে ছিন্নভিন্ন মনগুলো অন্তত এমন বেহেস্ত পাক, যেখানে যুদ্ধ শব্দটার অস্তিত্ব নেই। মনে মনে সেই ইচ্ছাটা খুব করে বলতে থাকেন জাফর। শোক পালনের উপাচার পেরিয়ে সেই প্রার্থনাটুকু মিশে যায় গাজার বারুদের গন্ধভরা বাতাসে।

জাফরের সারাদিনের কাজে সাহায্য করেন খান ইউনিসের চার যুবক। তারা বাস্তুচ্যুত হয় পথ হারিয়ে ফেলা সহযাত্রীদের মাটি জোগান। একই সঙ্গে যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজায় অভুক্ত মানুষদের সাহায্যের ব্যবস্থা করে দেন জাফর আর তার সঙ্গীরা। বিনিময়ে তারা কিছুই চান না, শুধু গাজায় একমুঠো শান্তি ছাড়া।

এআরএস
টাইমলাইন: হামাস-ইসরাইল সংঘর্ষ
১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:৩৯
১৮ অক্টোবর ২০২৪, ২০:৫৪
দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের রক্তাক্ত সংঘাতের পর রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে নতুন আশার ইঙ্গিত দিয়েছে। রাশিয়ার দূর প্রাচ্যে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেয়ার সময় রুশ...
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনি ওয়াটার অথরিটির বরাত দিয়ে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'প্যালেস্টাইন টিভি' জানিয়েছে,...
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে কমপক্ষে ‘৩০ থেকে ৪০ জন’ ফিলিস্তিনিকে চিহ্নিত করে হত্যা করার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের চরমপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। শুধু তাৎক্ষণিক...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান সামরিক সংঘাত ও টানটান উত্তেজনার মধ্যেই রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির রাজনৈতিক...
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার যে স্বাধীনতা আছে, বাকস্বাধীনতা আছে, সেটা অব্যাহত থাকবে। এখন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে।
বিএনপি ফটোসেশনের রাজনীতি করে না। ফটো শো’র রাজনীতিও করে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন গাজী নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, এ দেশে যারা বসবাস করেন তারা সবাই এবং সব ধর্মের...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর