পঞ্চমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ২০০০ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাশিয়ার ক্ষমতায় রয়েছেন ৭১ বছর বয়সী পুতিন। এবারের নির্বাচনেও তিনিই জয়ী হবেন সেটি অনেকটাই নিশ্চিত।   

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে পঞ্চমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি এবং সেক্ষেত্রে তার ক্ষমতার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়বে।

সেই সঙ্গে রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রেসিডেন্ট পদে থাকার রেকর্ডটিও তার হয়ে যাবে। বর্তমানে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে থাকার রেকর্ডের মালিক জোসেফ স্তালিন এবং লিওনিদ ব্রেজনেভ। সাবেক সোভিয়েত আমলে দু’জনেই ২৪ বছর করে ক্ষমতায় ছিলেন। 

ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির প্রার্থী ৭১ বছর বয়সী পুতিন যদি ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন, তাহলে তার ক্ষমতার মোট মেয়াদকাল পৌঁছাবে ৩০ বছরে।

এবারের নির্বাচনে পুতিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন রুশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নিকোলাই খারিতোনভ, ন্যাশনালিস্ট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা লিওনিদ স্লাতস্কি এবং নিউ পিপল পার্টির ভ্লাদিস্লাভ দাভানকোভ।  

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিপির লেফটেন্যান্ট কর্নেল পুতিন প্রথম রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হন ১৯৯৯ সালে। তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলেৎসিন ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুতিনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেছিলেন।

পরে ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতেন পুতিন। ২০০৪ সালের নির্বাচনে ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ফের প্রেসিডেন্ট হন।

২০১২ সালে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হন পুতিন এবং ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সেই নির্বাচনে জিতেন। সেবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে সংবিধানে পরিবর্তন আনেন তিনি। প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল ৪ বছর থেকে ৬ বছরে উন্নীত করেন এবং দুই বারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীতা না করার যে বাধ্যবাধকতা ছিল— তা বাতিল করেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন পুতিন।