পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌবিমান ঘাঁটিতে হামলা

ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় আবারও বিপর্যস্ত পাকিস্তান। বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানঘাঁটি পিএনএস সিদ্দিকে আরেকটি ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বিএলএ’র সশস্ত্র শাখা মাজিদ ব্রিগেড এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এ হামলার পর পরই টারবেট এলাকায় ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার আকাশে টহল দিতে দেখা গেছে। সেখানে তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ভারী গুলি ও বিস্ফোরণ অব্যাহত ছিলো। হতাহতের বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।

সোমবার দিবাগত রাতে মুর্হুমুহু বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌ-বিমানঘাঁটি টারবেট। লাগাতার বিস্ফোরণে বিমানঘাঁটিতে কমপক্ষে চারটি সামরিক হেলিকপ্টার ও তিনটি ড্রোন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। হামলাকারীদের সঙ্গে পাক সেনার তিন ঘন্টারও বেশি সময় গুলি বিনিময় হয়েছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির মজিদ বিগ্রেডের সদস্যরা বিমানঘাঁটিতে ঢোকার চেষ্টা করতেই বাধা দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা। শুরু হয়ে যায় গুলির লড়াই। বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়তে থাকে হামলাকারীরা। তাতেই আগুন ধরে যায় বিমানঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে থাকা হেলিকপ্টারগুলিতে।

গোলাগুলিতে বালোচ বিদ্রোহীদের চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে কমপক্ষে ১২ জন পাক সেনার মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। হামলাকারীদের কাছ থেকে হ্যান্ড গ্রেনেডসহ অনেক স্বয়ংক্রিয় আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।

কিছুদিন আগেই বালুচিস্তানের বন্দর এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০ মার্চ বন্দর শহর গদরে আত্মঘাতী হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত হয়। সেবারও বালোচ সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে। বালুচিস্তানের মানুষের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের বিরোধ দীর্ঘ দিনের।

এই অঞ্চলের মানুষ পাকিস্তানের সরকারকে স্বীকার করে না। তাদের দাবি, জোর করে তাদের পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বালুচিস্তানের দাবি, পাকিস্তানের জন্মের পর ১৯৪৮ সালের ২৭ মার্চ অন্যায়ভাবে বালুচিস্তান দখল করেছে পাক সেনা। তার আগে এটি একটি স্বাধীন প্রদেশ ছিল। 

বর্তমানে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তান। প্রদেশটি নানা সম্পদের খনি। বালুচ নাগরিকদের দাবি, চীনের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে বালুচিস্তানের সম্পদ লুট করছে পাকিস্তান সরকার। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) তৈরির পরে গত কয়েক বছরে সেই লুট আরও বেড়েছে।

বালুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে চীনের নির্মিত গদর বন্দর। আর সেই সড়ক ব্যবহার করেই ইসলামাবাদ এবং বেজিংয়ের শাসকেরা বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে বলে দাবি করে আসছে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সশস্ত্র গোষ্ঠীরা।