আমেরিকা-ইসরাইলের প্রেমে ভাঙনের সুর!

ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বন্ধু ও সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র। গাজা যুদ্ধে গোলাবারুদ সরবরাহ, জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আটকে দিয়ে বারবার ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, সেই মজবুত বন্ধুত্বে একটু একটু করে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রথমবার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সায় না দিলেও, আপত্তি করেনি বাইডেন প্রশাসন। ফলে, দু'দেশের বিশ্বাস ও আস্থায় চরম সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। 

গাজার রাফাহ শহরে ইসরাইলের প্রস্তাবিত অভিযানের বিষয়ে অনেকদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই অভিযানের সিদ্ধান্তে অনড়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এরপরও নেতানিয়াহু রাফাহ শহরে অভিযান চালালে সেটি দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি, এরফলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অস্ত্র সহায়তা দেয়াও স্থগিত করতে পারে।

us 2

এর মধ্যেই নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আর আপত্তি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। ফলে অনায়াসে পাস হয়েছে গাজার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব। মোটেও খুশি হতে পারেনি ইসরাইল।

রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলছেন, এর ফলে বাইডেন এবং নেতানিয়াহুর মধ্যকার বিশ্বাস ভেঙে যেতে পারে। 

বিষয়টি যত্ন সহকারে পরিচালিত না হলে পরিস্থিতি শুধু খারাপের দিকে যাবে। অবশ্য গাজায় বর্বরতা চালানো ইসরাইলকে ক্রমাগত সমর্থন দিয়ে যাওয়ায় নিজ দেশেই চাপের মুখে পড়েছেন বাইডেন। 

us 3

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠাতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয়বার প্রার্থী হচ্ছেন এ ডেমোক্র্যাট নেতা। তবে ইসরাইল ইস্যুতে এবার মুসলিম আমেরিকানদের ভোট হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

এদিকে, স্বদেশে চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহুও। যুদ্ধের সাত মাসেও হামাসকে বাগে আনতে না পারা এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে জোরেশোরে। চলছে আন্দোলনও।

এরই মধ্যে ওয়াশিংটনে ইসরাইলের একটি প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল করেছে তেল আবিব। গাজার রাফাহ শহরে সামরিক অভিযানের বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। 

নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো না দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে 'স্পষ্টতই পেছনে সরে যাওয়া' এবং এটি ইসরাইলের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।