গেলো বছরের ৭ অক্টোবর গাজার হামাস সরকারের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধ শুরু করে দখলদার ইসরাইল। এই সুযোগে পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করা শুরু করে জায়নবাদীরা। গেলো পাঁচ মাসে পশ্চিমতীরের আরও ২৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে তারা।
ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেসিসটেন্ট কমিশন সিডব্লিউআরসি ৪৮তম ভূমি দিবসে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির।
সিডব্লিউআরসি আরও জানিয়েছে, ইসরাইলি সরকার নতুন করে আরও ১ হাজার ৮৯৫টি নতুন বসতির অনুমোদন দিয়েছে। এতে করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসবাস করা ২৫টি বেদুইন সম্প্রদায় বাস্তুচ্যুত হয়ে গেছে।
এছাড়া ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য ৮৪০টি চেকপয়েন্ট ও গেট স্থাপন করা হয়েছে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সাধারণ ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পদের ওপর ৯ হাজার ৭০০ বার হামলা চালিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, শুধু পশ্চিমতীর নয়, ৭ অক্টোবরের পর নতুন করে গাজারও কিছু এলাকা দখল করেছে ইসরাইল। গাজার আরও কিছু এলাকা দখলের পরিকল্পনা রয়েছে নেতানিয়াহু সরকারের।
১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে জর্ডানের শাসনাধীন পশ্চিমতীর দখল করে নেয় ইসরাইল। আন্তর্জাতিক আইনে এই দখলদারিত্ব অবৈধ ঘোষণা করা হলেও ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এসব অঞ্চলে দখল বজায় রেখেছে ইসরাইল।
জাতিসংঘসহ বিশ্বের বহু দেশ এ অবৈধ দখলদারিত্বের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত লাখ ছাড়িয়েছে।
গাজায় চলমান এই গণহত্যায় ইসরাইলকে সরাসরি অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো পশ্চিমা দেশগুলো। এমনকি জাতিসংঘে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবেও ভেটো দিয়েছে ন্যাটোভুক্ত অধিকাংশ দেশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ইরানের মতো দেশগুলো এ গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।