দখলদার ইসরাইলকে জাতিসংঘের নারী অধিকার কমিশন থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্বের দুই হাজারেরও বেশি মনোবিজ্ঞানী। জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে লেখা এক চিঠিতে তারা এই দাবি জানান।
ইরানভিত্তিক পার্সটুডে শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চিঠিতে গাজার শিশু ও নারীদের মানসিক সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, ইসরাইলের পাশবিক হামলা ও গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মনোবিজ্ঞানীরা।
জাতিসংঘের নারী-অধিকার বিষয়ক কমিশন কি কেবলই কয়েকটি হাতে গোনা দেশের জন্য? -এমন প্রশ্ন তুলে চিঠিতে তারা লিখেছেন, ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুদের কোনো স্থান কি এ সংস্থায় নেই? জাতিসংঘের নারী-অধিকার কমিশনের সম্মানিত সদস্যরা কি এ পর্যন্ত সেইসব নারী ও শিশুদের মানসিক সুরক্ষা বা নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে দেখেছেন যারা বোমা, গুলি ও গোলার শব্দ শুনে তাদের দিন শুরু করেন?

গণহত্যা ও নৃশংস আগ্রাসন চালানো সত্ত্বেও এখনও কীভাবে এই কমিশনে ইসরাইলের সদস্য পদে বহাল রয়েছে এবং ২৫ হাজারেরও বিশ নিরপরাধ নারী ও শিশুকে হত্যা সত্ত্বেও তেল-আবিবের শাসকগোষ্ঠী কোন মুখে নারী ও শিশুদের অধিকার নিয়ে কথা বলে? একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘের চোখ ও কানগুলো কি এইসব লোমহর্ষক নৃশংস অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে বন্ধ হয়ে আছে? জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এমন প্রশ্নও রাখেন তারা।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নারী অধিকার কমিশন এবং শিশু-অধিকার কনভেনশন থেকে তেল আবিবকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন ওই চিঠিতে সই করা মনোবিজ্ঞানীরা।

এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত লাখ ছাড়িয়েছে।
গাজায় চলমান এই গণহত্যায় ইসরাইলকে সরাসরি অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো পশ্চিমা দেশগুলো। এমনকি জাতিসংঘে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবেও ভেটো দিয়েছে ন্যাটোভুক্ত অধিকাংশ দেশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ইরানের মতো দেশগুলো এ গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
পবিত্র ভূমি দিবসে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ যাত্রা
বাল্টিমোর দুর্ঘটনার কার্টুন চিত্রে তোলপাড় নেটদুনিয়া