বাল্টিমোর সেতু: তদন্ত চলছে, জাহাজেই থাকবে হবে ক্রুদের

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরের আইকনিক ‘ফ্রান্সিস স্কট কি’ সেতুর একটা বড় অংশ জাহাজের ধাক্কায় ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার পর থেকে জাহাজের ২০ জন ভারতীয় এবং একজন শ্রীলঙ্কান ক্রুর সবাই দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজেই রয়েছেন। আমেরিকান কর্তপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ক্রুকে জাহাজেই অবস্থান করতে হবে। 

জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান গ্রেস ওশান ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনার্জি মেরিন ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই’কে জানিয়েছে, সব ক্রু সুস্থ আছেন। তারা জাহাজের দৈনন্দিন রুটিন কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা জাহাজ ছাড়তে পারছেন না। তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগবে, সেটি নিশ্চিত এই মুহূর্তে সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান। 

গ্রেস ওশান ও সিনার্জি মেরিনের মুখপাত্র বলেন, তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগবে সেটি বলা যাচ্ছে না। তবে সঙ্গত কারণেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রুরা জাহাজ ছেড়ে যেতে পারছেন না। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, ২১ জন ক্রুর সবাই সুস্থ আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড এবং কোস্ট গার্ড তদন্তকারীদের সহায়তায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

প্রায় ৯৪০ ফুট দীর্ঘ সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ডালি’ বিদ্যুৎ হারিয়ে গেল ২৬ মার্চ সেতুটির একটি কংক্রিটের পিয়ারে বিধ্বস্ত হয়। অন্ধকারে জাহাজের আলো নিভে যাওয়ায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ক্রুরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেতুর একটি পিয়ারে সজোরে আঘাত করে ডালি। তবে তার আগে ক্রুরা একটি ‘সাহায্যের বার্তা’ জারি করে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে যে, একটি সংঘর্ষ হতে চলেছে।

তাৎক্ষণিক এই সিদ্ধান্তের জন্য বহু প্রাণ রক্ষা করা গেছে। কারণে, অল্প সময়ের মধ্যে সেতুর উপরে যান চলাচল থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলো, সেতু কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় ভারতীয় ক্রুদের প্রশংসা করেছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বাল্টিমোর শহরের মেয়র। সেতু দুর্ঘটনায় দুজনে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখন নিখোঁজ আছেন ছয় জন নির্মাণ শ্রমিক। 

বাল্টিমোর ইন্টারন্যাশনাল সিফারার্স সেন্টার জানিয়েছে, জাহাজের ক্রুরা সুস্থ আছেন। তারা তদন্ত দলকে সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন। গত বুধবার, এনটিএসবি-এর কর্মকর্তারা জাহাজ পরিদর্শন করেছে। এ সময় তারা তদন্তের অংশ হিসাবে জাহাজের বিভিন্ন নথি, সমুদ্রযাত্রার ডেটা রেকর্ডার ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে। পরের দিনগুলোতেও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা জাহাজে নিয়মিত পরিদর্শনে যাচ্ছেন।