ইরানে হামলা করে সারাবিশ্বের হাসির খোরাক হয়েছে ইসরাইল। এটাকে নাকি হামলা বলে! মানসম্মান রক্ষার্থে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছিলো ইসরাইল- সেগুলো পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস তো দূরের কথা- মাটিতে পড়ার আগেই ধ্বংস করে ফেলেছে ইরান।
অর্থাৎ ইরানের মাটিটাও কাঁপাতে পারলো না নির্লজ্জ ইসরাইল। বিশ্ব আবারও দেখলো নতুন এক ইরানকে। যে ইরান শুধু বুক চেতিয়ে আক্রমণই করতে পারে না বরং জালিমদের হামলা মুহূর্তের মধ্যে নস্যাৎ করে দিতে পারে। ইরানের হামলার জবাব দিতে এক সপ্তাহের টানটান প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে যা লিখলো ইসরাইল- তাতে দেখা গেল দেশটি অঙ্কে বড্ড কাঁচা। ইরানের তিনশ’ মিসাইলের জবাবে ইসরাইল পাঠিয়েছে তিনটা। আদতে মানসম্মান যা ছিলো- এ হামলার পর তাও গেল ইসরাইলের।
ঘোষিত না হলেও এটা যে একটা যুদ্ধ ছিলো সেটা সবার জানা। হামলার ব্যাপকতা, সাহস, পরিকল্পনা, হামলা ঠেকানোর ক্ষমতা কিংবা মানসিক দৃঢ়তা- সব ক্ষেত্রেই বড় ব্যবধানে জিতে গেল ইরান। ওদিকে লজ্জায় মুখ লুকানোর জায়গাটাও পাচ্ছে না ইসরাইল! ইসরাইলের সাথে চরম লজ্জায় পড়েছে ইসরাইলের বন্ধুরাও।
ইসরাইলে ইরানের উপর্যুপরি হামলার পর পাল্টা হামলা যে আসবে- সেটা অনুমেয়ই ছিলো। হামলার তীব্রতা কেমন হবে সেটাই ছিলো দেখার বিষয়। কিন্তু শুক্রবার যা দেখা গেল তা দেখে হাসলো দুনিয়ার মানুষ। ইরানের আকাশে দেখা গেল খই ফোটার মতো কী যেন ফুটছে। পরে শোনা গেল গেল এগুলো ইসরাইলের পাঠানো ক্ষেপণাস্ত্র। যেগুলোকে আকাশেই শেষ করে দিয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ইরানে পাল্টা না চালাতে বারবার ইসরাইলকে সতর্ক করে আসছিলো দেশটির মিত্ররা। কারণ সবারই জানা ছিলো- সেই ইরান আর এই ইরান- এক নয়। ইরান ঠিক মতো চেপে ধরলে ইসরাইল দেশটাই গায়েব হয়ে যেতে পারে । একদিকে লজ্জা অন্যদিকে ভয়-এ দুইয়ে কুঁকড়ে যাওয়া ইসরাইল শেষ পর্যন্ত ইরানে হামলা চালিয়েছে ঠিকই কিন্তু এগুলোকে যদি হামলা বলা হয়- তাহলে ইসরাইলে ইরানের হামলাকে বলতে হবে মহাহামলা। অর্থাৎ- ইরানের কাছে সামরিক কিংবা মানসিক- দুই পর্যায়েই ধোলাই খেল ইসরাইল।
এদিকে ইরান হুমকি দিয়ে রেখেছে- ইসরাইল হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখালে তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে। এখন ইরান এ হামলার জবাব দেবে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে। আর ইরান একবার হামলা শুরু করলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ইসরাইল।
ইসরাইলের মুখোশ খসে গেছে। বের হয়ে গেছে তার আসল চেহারা। ইসরাইল যে একটা কাগুজে বাঘ বাস্তবে বিড়াল- সেটা জেনে ফেলেছে পুরো বিশ্ব। গাজায় হামলা করে এমনিতেই সারাবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ইসরাইল। ইরানের সাথে এমন পরাজয়ে ইসরাইল এখন নিজের কাছেও বড্ড একা। পবিত্র শুক্রবারে হামলার দিনক্ষণ ঠিক করেছিলো ইসরাইল- কিন্তু নেতানিয়াহু জানে না- শুক্রবারে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে ইরান।