ইউক্রেনের খারকিভ শহরে আঘাত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারীরা নিরাপত্তা পরিষদকে (ইউএনএসসি) জানিয়েছে, এটি ছিলো উত্তর কোরিয়ার হাওয়াসোং-১১ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এক্ষেত্রে আবারও জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে দেশটি।
জাতিসংঘে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারীদের জমা দেয়া এক ৩২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের বরাতে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ জানুয়ারি ইউক্রেনের খারকিভ থেকে উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষটি উত্তর কোরিয়ার হাওয়াসোং-১১ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ ছিলো বলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য উত্তর কোরিয়া ২০০৬ সাল থেকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারীরা এ মাসের শুরুতে ওই ক্ষেপণাস্ত্রেরের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করতে ইউক্রেনে গিয়েছিলেন এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার তৈরি বলে কোনো প্রমাণ পাননি।
যদিও রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো সামরিক জোটের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছে।
সবশেষ গেলো ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৯ বার রাশিয়ার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।
মস্কো এবং পিয়ংইয়ং বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ২০১৯ সালে হাওয়াসোং-১১ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম প্রকাশ্যে আনে। পরে তা রাশিয়ায় সরবরাহ করা হয়।