লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহ'র ড্রোন হামলায় ইসরাইলের আরও দুই রিজার্ভ সেনা নিহত হয়েছে। গেলো ৭ অক্টোবরের পর হিজবুল্লার হামলায় লেবানন সীমান্তে এ নিয়ে মোট ১৩ দখলদার সেনা নিহত হলো।
তেল-আবিবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে জানায়, সোমবার বিকেলে উত্তর ইসরাইলের মেতুলার একটি সামরিক অবস্থানে ওই ড্রোন হামলা চালায় ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ। মঙ্গলবার দখলদার বাহিনী (আইডিএফ) দুই সেনা নিহতের খবর স্বীকার করেছে।
আইডিএফ জানায়, ইসরাইলি সেনারা হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক বোঝায় ড্রোনটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছে কিন্তু তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে এবং ড্রোনটি সেনাদের লক্ষ্য করে আঘাত করে। এতেই ওই দুই সেনা নিহত হয়।
নিহত সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে টাইমস অব ইসরাইল, তারা হলেন- মাস্টার সার্জেন্ট ডান কামকাজি এবং মাস্টার সার্জেন্ট নাহমান নাতান হারেৎজ। তাদের দুজনেরই বয়স ৩১ বছর। তারা দু'জনেই ৫৫১তম ব্রিগেডের ৬৫৫১তম ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।
এছাড়া এ হামলায় আহত হয়েছে আরও এক সেনা। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইডিএফ।
এদিন অধিকৃত গোলান মালভূমির ইসরাইলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ একসাথে অন্তত ৩০টি রকেট ছোঁড়ে।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।
গাজায় গণহত্যা শুরুর পরপরই ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থা ঘোষণা করে লেবানন সীমান্তে ইসরাইলের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটি ও অবস্থানে হামলা চালিয়ে আসছে হিজবুল্লাহ।
সংগঠনটি বলছে, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের হামলা থামবে না।