ভ্লাদিমির পুতিন! যার নাম শুনলে পশ্চিমাদের গায়ে জ্বর আসলেও, পশ্চিমাবিরেধী বিশ্বের কাছে তিনি এখন আস্থার প্রতীক। পঞ্চমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি শুধু পুরো রাশিয়ায় তার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তই করলেন না, সে সঙ্গে পশ্চিমাবিরোধী ভূ-রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সংহত করলেন।
পুতিন গ্রান্ড ক্রেমলিন প্যালেস থেকে লম্বা পথ হেঁটে উপস্থিত হন সেইন্ট অ্যানড্রু থর্ন হলে। সেখানেই আরও ছয় বছরের জন্য শপথ নিয়ে তিনি জোরালো কণ্ঠে বললেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমরা মহান। আমরা সব বাধাকে অতিক্রম করবো। আমাদের পরিকল্পনাকে ফলপ্রসূ করবো। সম্মিলিতভাবে আমরা বিজয়ী হবো।
গত মার্চে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার পর মঙ্গলবারের শপথ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হলেন ৭১ বছর বয়সী এই নেতা। দেশটির সরকারি-বেসরকারি সব টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে।
সেই অনুষ্ঠানে, পুতিনের জন্য বিছিয়ে দেয়া হয়েছিল, লাল কার্পেট। কিন্তু এই কার্পেট তার কাছে খুবই চেনা। দুই হাজার সালের মে মাসে প্রথমবার তিনি যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন, তখন থেকে অনেক কিছু পাল্টে গেছে। তখন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রাশিয়াকে সুরক্ষিত রাখবেন তিনি।
২৪ বছর পর সেই পুতিন এখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। রাশিয়ার অখন্ডতা রক্ষা, নাৎসি শক্তিকে ধ্বংস করা এবং রুশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জন্য ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেন। আর এতে শুরু থেকেই নিজেদের চেনা রূপে আর্বিভূত হয় আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট।
এই যুদ্ধে রাশিয়ার বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু রুশ সেনা প্রাণ দিয়েছেন। তবুও যুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে পুতিনকে এক চুলও নাড়ানো যায়নি। ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের উদারহাতে সামরিক সহায়তা আর রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিলর্জ্জ সব নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুতিনকে টলানো যায়নি একফোঁটাও।
রাশিয়ার দায়িত্ব হাতে তুলে নেয়ার পর ভ্লাদিমির পুতিন দেশকে রাজনৈতিকভাবে যেমন স্থিতিশীল করেছেন। তেমনি দেশকে আবারও স্বাবলম্বী করেছেন। যুদ্ধ ও পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রের পরও, ইতিহাসের যে কোনো সময়ের চেয়ে রাশিয়ার অর্থনীতি এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ভালো করছে।
পুতিন প্রথম ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ জন ভিন্ন ভিন্ন প্রেসিডেন্ট এবং বৃটেনে সাতজন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন। প্রায় ২৫ বছর রাশিয়াকে শাসন করার মধ্যদিয়ে পুতিন তার সুনির্দিষ্ট চিহ্ন রেখে যাচ্ছেন। তাই এখন গর্বাচেভ আর ইয়েলৎসিনকে ভুলে রুশ নাগরিকরা আক্রান্ত পুতিনিজমে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাত্র আট বছর পর, ক্রেমলিন প্রাসাদের শীর্ষে উঠে আসা ৭১ বছর বয়সী প্রাক্তন কেজিবি গুপ্তচর ভ্লাদিমির পুতিন জোসেফ স্ট্যালিনকে ছাড়িয়ে যাবেন এবং সম্রাজ্ঞী ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের পর রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদী শাসক হবেন, যদি তিনি মেয়াদ পূর্ণ করেন।
রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গেনাডি জুগানভ বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কর্তৃত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি, আমেরিকান প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি, এমনকি রাশিয়ান জার থেকেও বেশি। আমাদের প্রেসিডেন্টের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্রাসাদের হল অফ সেন্ট অ্যান্ড্রুতে রাশিয়ান অভিজাতদের সামনে শপথ গ্রহণের পরে পুতিন বলেন, আমরা পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলির সাথে সংলাপ প্রত্যাখ্যান করি না। কৌশলগত স্থিতিশীলতার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের ‘অহংকার’ তাতে বাধা দিচ্ছে।