কাচিনের চার শহর ও ৮০ সেনা ঘাঁটি হাতছাড়া

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিপদ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বিদ্রোহীদের সম্মিলিত প্রতিরোধ যুদ্ধে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে দেশটির জান্তা। একের পর এক প্রদেশ হাতছাড়া হচ্ছে শাসকদের। নতুন করে আবারও চাপে পড়েছে নেপিদোর কর্তারা। দেশটির কাচিন রাজ্যের চারটি শহর এবং ৮০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি দখল করেছে বিদ্রোহী বাহিনী কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি।

দুই মাসের জান্তা-বিরোধী অভিযানে এসব শহর ও ঘাঁটি দখল করার দাবি করেছে স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী এই  গোষ্ঠীটি। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি সেনা হারিয়েছে জান্তা সরকার। ২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মায়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে জান্তা বাহিনী।

সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক জান্তাকে প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে অসামরিক ও সামরিক বিদ্রোহীরা। রাখাইন, কাচিন, চীনসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা জোরদার করেছে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও। ক্ষমতায় আসার তিন বছর পর বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি বার্মিজ জান্তা সরকার। সম্প্রতি জান্তা বাহিনী ডথপোনিয়ান, লুয়েগেল, সিনবো ও সামপ্রাবম শহরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

miyanmar1

শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে, কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মিকে সহায়তা করে যাচ্ছে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স, আরাকান আর্মিসহ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। গত অক্টোবরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই সামরিক টহল চৌকি, অস্ত্রাগার ও বেশ কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে জান্তা সরকার। শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী আরও দুই দেশ চীন ও ভারতেও পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বার্মিজ সেনারা।

এছাড়া, মিয়ানমারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দাওনা পাহাড়ের জঙ্গলে একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোদ্ধারা নতুন করে মোতায়েন করা জান্তা সেনাদের আটকে রাখতে লড়াই করছে। বিদ্রোহীদের দখল করা মিয়াবতী শহর পুনরুদ্ধারে এসব সেনাদের পাঠায় জান্তা। থাইল্যান্ড সীমান্তে এই শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বলা হচ্ছে, মিয়াবতী ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানগুলোতে সামনে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

গত বছর অক্টোবর থেকে রণক্ষেত্রে একাধিক পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে মিয়ানমার সেনারা। সমন্বিতভাবে যা অর্থনীতির ক্ষতি করছে। ক্ষমতা দখলের পর জান্তা সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। সেনাবাহিনীতে সংকট দেখা দেওয়ায় বাধ্যতামূলক সদস্য নিয়োগ দেওয়ার আইন করা হয়েছে। তরুণ থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত এমনকি রোহিঙ্গাদেরও ধরে ধরে পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে।

miyanmar2

এক থাই কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক সূত্র চলমান সংঘাতের পর্যালোচনায় রয়টার্সকে বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী হয়ত বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী সব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। বিস্তৃত রণক্ষেত্রের সম্মুখভাগ ধীরে ধীরে তাদের হাতছাড়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে অগ্রাধিকার ও সামরিক শক্তি সংগঠিত করতে পারে নেপিদোর জান্তা সরকার।