বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে উদ্বেগজনক বার্তা বিজ্ঞানীদের

বিশ্বে গেলো কয়েক বছরে রেকর্ড গতিতে ভেঙেছে মেরু অঞ্চলের বরফস্তর, বেড়েছে উষ্ণতা। যা দেখে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো শঙ্কিত। বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ স্থানীয় বিজ্ঞানী এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

আর্থ সিস্টেম সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দশকের গড় হিসেবের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত বিশ্বে তাপমাত্রা বেড়েছে ০ দশমিক ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

১৮৫০ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রাক শিল্পযুগে ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি।  

এটি দশকের গড় হিসেবে গত বছরের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি। ২০২২ সাল পর্যন্ত দশকওয়ারী গড় তাপমাত্রা ছিলো ১ দশমিক ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট এই উষ্ণতা নজিরবিহীন রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জার্মানিতে চলতি সপ্তাহে জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের মিলিত হওয়ার এবং নভেম্বর আজারবাইজানের বাকুতে জাতিসংঘের কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনের প্রাক্কালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হলো।

২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার হার প্রাক শিল্পযুগের আগের স্তরের ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার বিষয়ে বিশ্ব নেতারা সম্মত হয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে পারা সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু বুধবারের প্রতিবেদনটিতে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ মানুষের কর্মকাণ্ডে তাপমাত্রা প্রাক শিল্পযুগের আগের স্তরের ১ দশমিক ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে উষ্ণতার জন্যে দায়ী কার্বনসহ অন্যান্য গ্যাসের গড় বার্ষিক নিঃসরণের পরিমাণ ৫৩ বিলিয়ন টন। ২০২২ সালে নিঃসরণের পরিমাণ ছিলো ৫৫ বিলিয়ন টন।

গবেষণাপত্রের সহ-লেখক পিয়েরে ফ্রিডলিংস্টেইন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, যে পরিমাণে গ্যাস (কার্বন) নিঃসরণ হবে তাপমাত্রাও সে গতিতে বাড়বে।

নিঃসরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হলে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার লক্ষ্য অর্জিত হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানব সমাজের উপর প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে, আবহাওয়া আরও চরম হচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, মানব বসতি এবং সমাজের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। 

পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হবে ব্যাপক ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী।