ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় কোটি কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে রামমন্দির। কিন্তু উদ্বোধনের ছয় মাস যেতে না যেতেই বছরের প্রথম বৃষ্টিতে মন্দিরের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ফেটে চুইয়ে পড়ছে পানি।
গেলো জানুয়ারিতে রামমন্দির উদ্বোধনের পর শনিবার মধ্যরাতে অযোধ্যা শহরে প্রথমবার ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এর পরপরই ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও ভাইরাল রামমন্দির।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, অযোধ্যায় বছরের প্রথম বৃষ্টিতে মন্দিরের ভেতরে এবং আশপাশের কমপ্লেক্সে পানি জমেছে। ফলে মন্দিরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়াও প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিতে অযোধ্যার পরিকাঠামোও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে রাম পথের তিনটি স্থানসহ পাঁচটি বড় রাস্তা ধসে গেছে।
শহরের রিকাবগঞ্জ রোডের চকের কাছে এবং পুলিশ লাইনের সামনে বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। ১৮০০ কোটি টাকায় তৈরি হয় এই মন্দির। তৈরির পেছনে রয়েছেন দেশের নামকরা বিজ্ঞানীরা। সাহায্য নেয়া হয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো)। তারপরও মন্দিরের এমন অবস্থা দেখে হতবাক অনেকেই।
তবে রামমন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম বা অন্য কোনো ত্রুটি নেই বলে দাবি করেছেন, অযোধ্যায় শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র।
তিনি বলেন, রামমন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হয়নি। কিন্তু মন্দিরের বিদ্যুতের লাইনগুলো বেয়ে জল ভিতরে চলে আসছে। আর সেটাই চুইয়ে পড়ছে।
এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রামমন্দির উদ্বোধন করেছিলেন। সে সময়ই অভিযোগ উঠেছিল, মন্দিরের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই লোকসভা ভোট সামনে রেখে উদ্বোধন করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল বিজেপি সরকার।
এদিকে রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য্য সতেন্দ্র দাস এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, প্রথম বৃষ্টিতেই রামলালার মূর্তি স্থাপন করা গর্ভগৃহের ছাদ ফুটো হতে শুরু করেছে। বিষয়টিতে মনোযোগ দেয়া উচিত এবং কী ঘাটতি রয়েছে তা খুঁজে বের করে মেরামত করা উচিত।