ইরানের নির্বাচন নিয়ে গোপন জরিপ কি বলছে?

ইরানে কি আবারও ক্ষমতায় ফিরছে সংস্কারবাদীরা? দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটাভুটির মধ্যেই এক জরিপের ফল প্রকাশ্যে আসতেই এ প্রশ্নটি জোরেশোরে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণের জন্য নয় এমন এক জরিপের ফলাফল দেখেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই।

‘প্রাইভেট রিপাবলিকান গার্ড পোলিং’ এর এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংস্কারবাদী প্রার্থী মাসুদ পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ ভোট পেতে পারেন। যদিও এ জরিপের তথ্য জনসাধারণের জন্য প্রকাশ হয়নি। তারপরও মনে করা হচ্ছে, এতে করে তেহরানের ক্ষমতাবলয়ে সংস্কারবাদীদের উত্থান হতে পারে।

iran1

মিডেল ইস্ট আই জানিয়েছে, জরিপের ফলে দেখা গেছে মাসুদ পেজেশকিয়ান পেতে পারেন ৩৭ শতাংশ ভোট। এরফলে নির্বাচনে যদি রানঅফে গড়ায় তাহলে সেখানে তার জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। ইরানের এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে মাসুদই একমাত্র সংস্কারবাদী ব্যক্তি।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রথম ধাপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে, একজন প্রার্থীকে ভোটের ৫০ শতাংশ ভোট পেতে হবে। কেউ যদি এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করতে না পারেন তাহলে নির্বাচন গড়াবে দ্বিতীয় ধাপে। যা রানঅফ নামে পরিচিত। এতে লড়বেন প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীরা।

iran2

মাসদাদের ফেরদৌসী বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো একটি জরিপে দেখা গেছে মাসুদ ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পাবেন। এতে আরও উঠে এসেছে যে, নির্বাচন রানঅফে গড়ালে সেখানেও সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে মাসুদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৫ জুলাই রানঅফের তারিখ নির্ধারণ করা আছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানে রক্ষণশীলদের হাতে ক্ষমতা থাকলেও মাসুদ পেজেশকিয়ান মনোনয়ন পাওয়ায় সংস্কারপন্থীরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। ইরানের সবশেষ সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ খাতামি পেজেশকিয়ানের প্রশংসা করে তাকে একজন ‘সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও যত্নশীল’ মানুষ বলে অভিহিত করেন।