মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আটলান্টায় প্রথম ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে’ রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। বিতর্কের পর জনমত জরিপে দেখা গেছে ট্রাম্প শিবির বেশ উচ্ছ্বসিত, উল্টোদিকে হতাশায় নিমজ্জিত বাইডেনের সমর্থকরা।
এই পরিস্থিতি বিতর্কে ট্রাম্পের চেয়ে ভালো করার দাবি করে বসেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি নিজের পারফর্মেন্সে বেশ খুশি। শুরুর দিকে কিছুটা হোঁচট খেলেও শেষ দিকে দুর্দান্ত খেলেছেন বলেই তার কাছে মনে হচ্ছে। বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে ভালো করেছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বিতর্ক শেষ হবার পর খাবারের জন্য আটলান্টার একটি ওয়াফেল হাউস রেস্তোরাঁ থেকে নেমে আসার সময় বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, আমি মনে করি আমরা ভালো করেছি। যদিও বিতর্কের আয়োজক সিএনএন তাৎক্ষণিক এক জরিপে জানিয়েছে, এই বিতর্কে বাইডেনকে ছাড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে সিএনএন এর আটলান্টা স্টুডিওতে বিতর্কে অংশ নেন বাইডেন ও ট্রাম্প। সিএনএন এর তাৎক্ষণিক জরিপে দেখা গেছে, বিতর্ক দেখেছেন এমন নিবন্ধিত ভোটারদের ৬৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্প ভাল করেছেন। আর মাত্র ৩৩ শতাংশ বাইডেনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

বিতর্কে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট শিবির নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পারফরমেন্স সম্পর্কে কি মত দিয়েছে সে বিষয়ে সিএনএন জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের পারফরম্যান্সে ব্যাপক আস্থা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু, ডেমোক্র্যাটরা বাইডেনের পারফরমেন্সে বেশ হতাশ।
বিতর্ক দেখা রিপাবলিকানদের ৯৬ শতাংশই বলেছেন, ট্রাম্প ভাল করেছেন। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র ৬৯ শতাংশ বলেছেন বাইডেন ভালো করেছেন। ডেমোক্র্যাট সদস্যদের কেউ কেউ বাইডেনকে সরিয়ে নভেম্বরের নির্বাচনের জন্য অন্য কাউকে প্রার্থী করার কথা বলেছেন।
সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান স্টেফাইন মারফি বলেন, কিছু মুহূর্ত ছিলো যেখানে বাইডেন তার বয়স তুলে ধরেছেন। তাকে বোঝাটা কষ্টসাধ্য ছিল। আর সাবেক সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান রোডনি ডেভিস বলেছেন, বিতর্কটি ছিলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিষ্কার জয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেনের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ডেমোক্র্যাটরা উদ্বিগ্ন। তবে এমন পরিস্থিতিতেও বাইডেনের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেছেন, কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হলেও, শেষটা দুর্দান্ত ছিলো। বাইডেনের প্রতি দলের সমর্থন রয়েছে এবং থাকবে।
তবে বাইডেনের জন্য সবচেয়ে ভালো দিকটি হলো, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সমর্থন পাচ্ছে। তাছাড়া তিনি নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে তাকে বদল করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া বাইডেনকে বাদ দিয়ে সামনে আনার মতো পরিচিত এবং বেশ গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রার্থীও নেই।
ট্রাম্পের আক্রমণে লেজেগোবরে বাইডেন
ট্রাম্প-বাইডেন বিতর্কে তোপের মুখে দুই সাংবাদিক