৮৮ বছরের রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। ভারি বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে দুই দিনে দিল্লিতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে চার জন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া জলাবদ্ধতায় শহরটির যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দিল্লির বাসিন্দারা। দিল্লিতে আরও বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণ। জারি হয়েছে সতর্কতা।
গত কয়েক দিন দিল্লিতে তীব্র তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছিলো। দিল্লির কোথায়ও কোথায়ও ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। রাজধানী ও আশেপাশের এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীজুড়ে তীব্র জলজট এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবারও বৃষ্টি হওয়াতে দিল্লিতে জলজট পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গোটা বর্ষার মৌসুমে দিল্লিতে ৮০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু, ১৯৩৬ সালের পর শুধু বৃহস্পতিবারেই এই প্রথম বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২৮ মিলিমিটার। যা একটি রেকর্ড।
এই পরিমাণ বৃষ্টি পুরো জুন মাসে দিল্লির গড় বৃষ্টিপাতকে ছাড়িয়ে গেছে। বৃষ্টিতে তাপ থেকে রেহাই পেলেও এই স্বস্তি এখন রূপ নিয়েছে ভোগান্তিতে। একাধিক এলাকা পানির নীচে ডুবে গেছে। কোথাও কোমর তো কোথাও আবার হাঁটু সমান পানি রাজধানীতে। রাস্তা-ঘাট জলমগ্ন থাকায় চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
এক দিল্লিবাসী নিজেরে এলাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কাজে যাই। সাধারণ সময়ে ৪৫ মিনিট লাগে, কিন্তু আজকে পৌনে দুই ঘণ্টা হয় এখানেই আটকে আছি। বন্যায় রাস্তায় গাড়ি, বাস, মোটরসাইকেল সব আটকে গেছে। গোটা এলাকা জুড়ে একই অবস্থা। জীবন হঠাৎ করে থমকে গেছে।
ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মুষলধারে বর্ষণে বছরের এই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২২৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত তীব্র বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দিল্লিতে জারি করা হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। পাশাপাশি পাঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলেও নতুন করে জারি করা হয়েছে বন্যার সতর্কতা। আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। এতে সেখানে বন্যা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সেখানে পানিবন্দী রয়েছে এক লাখের বেশি বাসিন্দা।