ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত ১৬

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত দুই সপ্তাহে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলছেন, বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি আসাম।

ব্রহ্মপুত্রের একটি ছোট দ্বীপ থেকে ১৩ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানকার চাংলাং জেলার একটি স্কুল থেকে ৭০ জন ছাত্র ও শিক্ষককে উদ্ধার করেছে সেনারা। একইভাবে সিকিম, মণিপুর ও মেঘালয় রাজ্যেও প্রবল বন্যায় রাস্তাঘাট ডুবে গেছে ও সেতু ভেঙে পড়েছে।

বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আগে ব্রহ্মপুত্র নদী আসামে প্রায় ৮০০ মাইলজুড়ে প্রবাহিত হয়। বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই এই নদীর পানি উপচে আসামে বন্যা দেখা দেয়। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আসামকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসাবে দেখা হয়।

আসামের বিখ্যাত কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের প্রাণীরাও বন্যার হাত থেকে রেহাই পেতে উঁচু জমিতে গিয়ে উঠছে। পার্কটিতে প্রায় আড়াই হাজার এক শিংওয়ালা গন্ডার রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, পার্ক রেঞ্জাররা প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বক্ষণ তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন।

আসামের পাশের রাজ্য চীনের সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশে ভূমিধসে বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। রাজ্যের চাংলাং জেলার একটি স্কুল থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এছাড়া সিকিম, মণিপুর ও মেঘালয় রাজ্যে প্রবল বন্যায় রাস্তা ভেসে গেছে, ভেঙে পড়েছে সেতু।

ভারতের সরকারি হিসাব অনুসারে, বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ধসের কারণে মে মাসের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ছয়টি রাজ্যে ৮০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন।