গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে ইসরাইল যে নারকীয় হামলা শুরু করেছিলো তা থেকেই এখন পর্যন্ত কিছুই অর্জন করতে পারেনি দেশটি। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া ইসরাইলের অত্যাধুনিক বাহিনী আইডিএফের অর্জন শূন্য। এর ফলে গাজা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আগ্রহ ক্রমেই কমে আসতে শুরু করেছে। এতে বিপদ দেখছে ইসরাইল।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবাজ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়েছেন লেবাননে সর্বাত্মক হামলা শুরু করার, কারণ এরইমধ্যে তাদের জীবন তামা তামা করে ছেড়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী। যাদের বলা হচ্ছে বিশ্বের রাষ্ট্রবিহীন সবচেয়ে দুর্ধর্ষ এবং সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনী। গেলো ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরাইলের উত্তরে একের পর এক প্রতিরোধ হামলা চালিয়ে আসছে।

নেতানিয়াহু হুঙ্কার আর তর্জন-গর্জন করলেও হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সর্বাত্মক আক্রমণের কোন প্রস্তুতিই নেয়নি। কেন নেয়নি, এমন প্রশ্নের উত্তর একটাই, আর তা হলো ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ’র শক্তি নিয়ে পরিস্কার কোন ধারণা নেই দেশটির। তবে ইসরাইলের শীর্ষ সমর কর্তারা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, হামাসের চেয়ে বহু গুণে শক্তিশালী হিজবুল্লাহ। আর তাদের প্রশংসায় সব সময়ই পঞ্চমুখ আমেরিকা।
এই পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্যকর এক খবর এসেছে হিজবুল্লাহ’র সমর শক্তি নিয়ে। ইসরাইলের চিফ অফ স্টাফের প্রাক্তন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাম আমিনাচকে উদ্ধৃত করে বৈরুত-ভিত্তিক আল মায়াদিন নিউজ নেটওয়ার্ক সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইলি জনগণ হিজবুল্লাহর হুমকির পরিমাণ বুঝতে পারে না। কারণ এই সামরিক গোষ্ঠীর কাছে রয়েছে রকেটের বিশাল এক মজুদ, যা নিয়ে ঘুম নেই সমর কর্তাদেরও।

সাবেক এই ইসরাইলি কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, রকেট সম্ভারের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানির পরই হিজবুল্লাহকে পাঁচটি পরাশক্তির একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি জানান, পুরো শক্তি ছাড়া ইসরাইলের পক্ষে হিজবুল্লাহ এবং লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধ করতে সক্ষম নয়। রকেট চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ নিয়ে তাই ইসরাইলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের কঠিন সব মতবিরোধ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি লেবাননের গ্র্যান্ড শিয়া মুফতি শেখ আহমাদ কাবালান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা হলে ইসরাইল অভিমুখে পাঁচ লাখ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে হিজবুল্লাহ। তার এই হুঁশিয়ারি যে নিছক কোন বুলি ছিলো না তা এখন প্রমাণ হচ্ছে। একটি মার্কিন গবেষণা বলছে, পশ্চিমাদের ধারণা হিজবুল্লাহ’র কাছে পাঁচ লাখের বেশি রকেটের পাশাপাশি ড্রোনেরও বিশাল সম্ভার রয়েছে।

ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহারোনট এক প্রতিবেদনে বলেছে, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মজুদে অত্যন্ত বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি রয়েছে। অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারে এই গোষ্ঠীর যোদ্ধারা বিশ্বসেরা। ইসরাইলি সরকার এমন এক শত্রুর মুখোমুখি হচ্ছে, যাদের উচ্চ সামরিক সক্ষমতা আছে এবং অস্ত্রাগারে উন্নত মিসাইল ও ড্রোনের মতো বিপজ্জনক সরঞ্জাম রয়েছে।
এরইমধ্যে ইসরাইলি বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থাপনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে হিজবুল্লাহ। এতে প্রমাণ হয়, আটঘাট বেঁধেই রণক্ষেত্রে নেমেছে হিজবুল্লাহ। আরবের প্রখ্যাত রাজনৈতিক ভাষ্যকার আব্দুল বারি আতওয়ান বলেছেন, ইসরাইল লেবাননের বিরুদ্ধে কোনো রকম কাপুরুষতা দেখানোর চেষ্টা করলে হিজবুল্লাহ তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে। কাজেই সাবধান ইসরাইল!
হামাসের মুহুর্মুহু রকেট হামলায় কাঁপছে ইসরাইল
মমতার বিরুদ্ধে মামলা রাজ্যপালের