ইসরাইলে ১০০ কাতিউশা রকেট ছুঁড়লো হিজবুল্লাহ

কথায় কথায়, যখন তখন এখন ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট ছুঁড়ে লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরাইলের হামলায় এক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর বুধবার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ১০০টি কাতিউশা রকেট ছুড়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করায় ইসরাইলের দখলকৃত গোলান হাইটসের দুটি স্থানে এসব রকেট ছোড়া হয়েছে।

তারা বলেছে, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরাইলি গোলান ডিভিশন হেডকোয়ার্টারের নাফাহ ব্যারাক এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার হেডকোয়ার্টারের কেইলা ব্যারাকে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইসরাইলি শত্রুরা লেবাবনের উপকূলীয় শহর তায়ারে যে হামলা ও হত্যা চালিছে সেটির জবাবের অংশ এই হামলা।

ইসরাইলের হামলায় হিজবুল্লাহর অন্যতম জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিমার নাসের নিহত হন। তিনি ‘হজ আবু নিমা’ নামেও পরিচিত। ইসরায়েলি হামলায় তার দেহরক্ষীও প্রাণ হারান। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ‘হজ আবু নিমা’ নিহত হওয়ার পর ইসরাইলকে লক্ষ্য করে এ পর্যন্ত ছয়বার হামলা চালানো হয়েছে।

কাতিউশা রকেটকেই কেন ইসরাইলে হামলার জন্য বার বার বেছে নিচ্ছে হিজবুল্লাহ। কাতিউশা হলো এক ধরনের রকেট আর্টিলারি যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বারা নির্মিত এবং ফিল্ড করা হয়েছিলো। আর্টিলারি বন্দুকের তুলনায় এগুলো ভঙ্গুর, তবে সস্তা, উৎপাদন করা সহজ এবং প্রায় যে কোনো চ্যাসিসে ব্যবহারযোগ্য। এ কারণে ইসরাইলকে জবাব দেয়ার জন্য কাতিউশা রকটেই বেছে নেয় হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। 

কত রকেটের মালিক হিজবুল্লাহ?

বাস্তবে কত রকেটের মালিক লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী? ইসরাইলের চিফ অফ স্টাফের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাম আমিনাচ জানিয়েছেন, রকেট সম্ভারের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানির পরই হিজবুল্লাহকে পাঁচটি পরাশক্তির একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি জানান, পুরো শক্তি ছাড়া ইসরাইলের পক্ষে হিজবুল্লাহ এবং লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। রকেট চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ নিয়ে তাই ইসরাইলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের কঠিন সব মতবিরোধ।

ইসরাইলি জনগণ হিজবুল্লাহর হুমকির পরিমাণ বুঝতে পারে না। কারণ এই সামরিক গোষ্ঠীর কাছে রয়েছে রকেটের বিশাল এক মজুদ, যা নিয়ে ঘুম নেই সামরিক কর্তাদেরও। ইসরাইলের একজন সামরিক কমান্ডার বলেছেন, যদি যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ প্রতিদিন অধিকৃত ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ২,৫০০ রকেট ছুঁড়তে পারবে।

এর আগে ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধে দেখা যায়, ব্যাপক সংখ্যক রকেট ছোড়ে হিজবুল্লাহ। ইসরাইল সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ডের প্রধান উরি গর্ডিন বলেন, মে মাসে তেল আবিব ও আশদোদের মতো শহরগুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক রকেট হামলা হয়েছে। যা ইসরায়েলের ইতিহাসে এমনটা আর হয়নি। 

কাবালানের হুঁশিয়ারি এবং মার্কিন গবেষণা

তবে ১৮ বছরে হিজবুল্লাহ যে আরো লাখ লাভ রকেটের মালিক হয়েছে, তাতো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা! সম্প্রতি লেবাননের গ্র্যান্ড শিয়া মুফতি শেখ আহমাদ কাবালান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা হলে ইসরাইল অভিমুখে পাঁচ লাখ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে হিজবুল্লাহ।

তার এই হুঁশিয়ারি যে নিছক কোনো বুলি ছিলো না তা এখন প্রমাণ হচ্ছে। মার্কিন গবেষণা বলছে, পশ্চিমাদের ধারণা হিজবুল্লাহর কাছে পাঁচ লাখের বেশি রকেটের পাশাপাশি ড্রোনেরও বিশাল সম্ভার রয়েছে। ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহারোনট এক প্রতিবেদনে বলেছে, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মজুতে অত্যন্ত বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি রয়েছে।

অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারে এই গোষ্ঠীর যোদ্ধারা বিশ্বসেরা। হিজবুল্লাহর উচ্চ সামরিক সক্ষমতা আছে এবং অস্ত্রাগারে উন্নত মিসাইল ও ড্রোনের মতো বিপজ্জনক সরঞ্জাম রয়েছে। এরইমধ্যে ইসরাইলি বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থাপনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে হিজবুল্লাহ।

গত বছরের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এতে যোগ দেয় লেবানের শক্তিশালী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও। যুদ্ধের শুরুতে হিজবুল্লাহর হামলার তীব্রতা কম থাকলেও গত কয়েক মাসে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলা বাড়িয়ে দেওয়ায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের হুমকি দিয়ে আসছে ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আশঙ্কা করছে যদি হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ লেবানন পর্যন্ত গড়ায় তাহলে এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।