সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আমেরিকার স্নায়ুযুদ্ধের পর জার্মানিকে আবারও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ২০২৬ সাল থেকে জার্মানির বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট ইউরোপে যুদ্ধের প্রস্তুতিই শুরু করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। অর্থাৎ, আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে।
বুধবার, এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে জার্মানিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সব দূরপাল্লার অস্ত্র মোতায়েন শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। স্থায়ীভাবে এসব অস্ত্র রেখে দেয়া হবে। এগুলো ইউরোপজুড়ে মোতায়েন করা আমেরিকান অস্ত্রের চেয়ে বেশি দূরপাল্লার এবং বিধ্বংসী। ভূমি থেকে যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে মুহূর্তে আঘাত হানার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে। যাতে করে শত্রুরা সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকে।
১৯৮৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের মিখাইল গর্বাচেভ ও যুক্তরাষ্ট্রের রোনাল্ড রিগ্যান স্বাক্ষরিত মধ্যবর্তী-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তির অধীনে ৫০০ কিলোমিটার অতিক্রমকারী স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল। এর মাধ্যমে প্রথমবার দুই পরাশক্তি তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার কমাতে সম্মত হয় এবং পরমাণু অস্ত্রের একটি সম্পূর্ণ মজুত ধ্বংস করে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি কমিয়েছিল।
রাশিয়ার আবারও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এমন অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে আইএনএফ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে। তবে মস্কো এই অভিযোগকে অস্বীকার করলেও, চলতি বছরের জুন মাসে মধ্য ও স্বল্পমাত্রার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেয়। পুতিন বলেন, এশিয়া এবং ইউরোপে এসব অস্ত্র পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া চুপ করে বসে থাকতে পারে না।
বুধবারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি এবং ইউরোপীয় সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রাখতে ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আধুনিক যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে পাঠানো হবে। এর আগে ২০২১ সালে আমেরিকান সেনাবাহিনীর বিশেষ দল জার্মানির উইসবাডেনে দ্বিতীয় মাল্টি-ডোমেন টাস্ক ফোর্স চালু করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে এসব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে এসএম-৬ এবং টমাহক অন্যতম। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করতে পারে। এসব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে ইউরোপে মজুত যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি পাল্লার এবং অনেক বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।