ট্রাম্পের কড়া কথা হজম করেও বন্ধুত্ব চাইলেন মার্জ

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০২:৫০ এএম

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ অবশেষে মেনে নিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একরোখা নেতার সাথে কাজ করতে হলে নিজের মতাদর্শ কিছুটা সিন্দুকে তুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। রোববার এক সাক্ষাৎকারে মার্জ স্পষ্ট করেছেন, ন্যাটোর স্বার্থে আমেরিকার সাথে পথ চলতে হলে ট্রাম্পের ভিন্নমতকে হজম করে নেয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় নেই। তবে, দুই নেতার এই প্রকাশ্য ‘বাকযুদ্ধ’ জার্মানি থেকে ৫,০০০ মার্কিন সেনা কমানোর কারণ কি না, এমন প্রশ্নে চ্যান্সেলর বেশ কায়দা করেই সাফাই গেয়েছেন।

সংঘাতের শুরুটা হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে। মার্জ প্রশ্ন তুলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধে ট্রাম্পের আদৌ কোনো প্রস্থানের পরিকল্পনা আছে কি না। তিনি এমনকি রসিয়ে বলেছিলেন, ইরানের সাথে আলোচনায় আমেরিকা শুধুই লজ্জিত হচ্ছে। ট্রাম্পও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন; তিনি পাল্টা আক্রমণে মার্জকে একজন অকার্যকর নেতা হিসেবে তকমা দিয়েছেন। এই রেষারেষির মধ্যেই গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানিতে থাকা তাদের বৃহত্তম ঘাঁটি থেকে পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেবে।


অনেকেই মনে করছেন মার্জের সমালোচনায় চটে গিয়েই ট্রাম্প এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে, মার্জ এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এর সাথে ব্যক্তিগত ঝগড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদ থেকেই জার্মানিতে মার্কিন উপস্থিতি কমানোর পক্ষে ছিলেন এবং ইউরোপীয়দের বারবার নিজের নিরাপত্তা নিজে দেখার নসিহত দিয়ে আসছিলেন। চ্যান্সেলরের ভাষায়, প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতেই পারে, কিন্তু আমেরিকা আমাদের জন্য অপরিহার্য অংশীদার।

এই সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা বার্লিনের জন্য এক বড় চপেটাঘাত। জো বাইডেন প্রশাসনের সময় জার্মানিতে দীর্ঘপাল্লার 'টমাহক' মিসাইল মোতায়েনের যে পরিকল্পনা ছিল, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তা কার্যত আঁতুড়ঘরেই মারা গেল। রাশিয়াকে রুখতে জার্মানি এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর অনেক ভরসা করেছিল।


এ প্রসঙ্গে মার্জ কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরেই বলেন, ট্রাম্প কোনোদিন এই পরিকল্পনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না। উপরন্তু, তিনি খোঁচা দিয়ে আরও যোগ করেন, আমার ধারণা, আমেরিকানদের নিজেদের কাছেই এখন যথেষ্ট পরিমাণে এই অস্ত্র নেই।

সব মিলিয়ে ফ্রিডরিখ মার্জ এখন এক কঠিন সমীকরণের সামনে। একদিকে আটলান্টিক পাড়ের মিত্রকে চটানো যাবে না, আবার অন্যদিকে ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির কাছে নতি স্বীকার করাও সম্মানের বিষয় নয়। দুই নেতার এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত ন্যাটোর ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে আপাতত মার্জ মেনে নিয়ে মানিয়ে নেয়ার নীতিতে হাঁটছেন, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

এআরএস
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী।  সেই সঙ্গে ওই জলসীমায় শুক্রবার থেকে এ...
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব কেটি জ্যাকারিয়া দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় শুক্রবার তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা...
ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ যখন এক চরম অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, ঠিক তখনই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিস্ফোরক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। পারমাণিক বোমার বাইরে দেশটির হাতে...
হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি ক্যাটি জ্যাকারিয়ার পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জোর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রীতিমতো...
সুদূর চীনের হেনান শহর থেকে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে সোজা বাংলাদেশের মাদারীপুর সদর উপজেলার চাপাতলী গ্রামে হাজির হয়েছেন ওয়াং এরলিং নামের এক চীনা যুবক। উদ্দেশ্য একটাই, মন দেয়া-নেয়া হওয়া মাদারীপুরের...
বোন জামাই ঘরে তোলার আনন্দঘন মুহূর্ত যে এভাবে রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে, তা হয়তো লুদরপুর গ্রামের কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি! ছোট বোনের বিয়ের দাওয়াত নাকি দেয়া হয়নি সময়মতো, শুধুমাত্র এই সামান্য ‘জিদ’...
নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দল আন্দোলনের নামে রাজপথে নতুন নাটক শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশ যখন নানা...
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা পদযাত্রার পরিকল্পনা করার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর