আমেরিকার ওয়াশিংটনে দু’দিনব্যাপী পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর ৭৫তম বার্ষিক সম্মেলনে তুমুল চর্চা হয়েছে মার্কিনবিরোধী শক্তিগুলো নিয়ে। সবচেয়ে বড় শত্রু রাশিয়া থেকে শুরু করে চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সমরশক্তি সঞ্চয়ের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ন্যাটোর নেতারা।
পশ্চিমা রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের কথায় মনে হয়ে দুনিয়াতে তারাই শুধু সামরিক শক্তিতে বলিয়ান হবে, অন্য কোন দেশ নয়। এজন্য পশ্চিমাবিরোধী সবগুলো পক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি বার্তা পাঠিয়েছে ন্যাটো। কিন্তু এসব হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দেয়নি কোন দেশ। উল্টো গলা চড়ায় পাল্টা হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ন্যাটো বিরোধীরা।
এবারের ন্যাটো সম্মেলনে সবচেয়ে বড় ইস্যু ছিলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধে কিয়েভকে আবারও দুই হাত খুলে সামরিক সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছে ন্যাটো। যুদ্ধে রাশিয়াকে মোকাবেলায় দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগকে কমপক্ষে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ন্যাটো নেতারা।
আগামী বছরের মধ্যে ইউক্রেনকে এই সহায়তা সরবরাহ করা হবে। এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে কিয়েভকে পশ্চিমা সামরিক এই জোটে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য একটি ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ও ঘোষণা করেছেন তারা। ওয়াশিংটনে একটি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পর চূড়ান্ত এই ঘোষণাটি আসে।
এই সম্মেলনে ন্যাটোর নেতারা অভিযোগ করেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে সচল রাখতে অন্য যে কোন দেশের চেয়ে চীন ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এই অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। বলেছে, ন্যাটোর নেতারা মিথ্যাচার করার পাশাপাশি ন্যাটো বিরোধীদের উস্কানি দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ন্যাটো জোট বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর কথা বলে চীনকে অপমান করছে। তথাকথিত ‘চীনা হুমকি’ প্রচার করে সংঘাত ও লড়াইকে উস্কে দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ন্যাটোকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে বলেছে চীন।
চীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের প্রতিবেশীদের সাথে ন্যাটো সামরিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করায় বেইজিংয়ের সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্ক অবনতির সঙ্গে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর জবাবে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে চলতি সপ্তাহে বেলারুশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন।
রয়টার্স জানিয়েছে, পোলিশ সীমান্তের কাছে রাশিয়ার মিত্র বেলারুশের মাটিতে চীনের এই যৌথ মহড়া এমন সময় হতে যাচ্ছে, যখন ন্যাটো নেতারা ওয়াশিংটনে একটি শীর্ষ সম্মেলনের জন্য জড়ো হচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ঠিক ওই সময়ে মহড়ার আয়োজন করে পশ্চিমা জোটকে একটি সতর্ক বার্তা পাঠাতে চেয়েছে বেইজিং।
একই সঙ্গে তাইওয়ানের আকাশে ২৪ ঘণ্টায় অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে ৬৬টি চীনা যুদ্ধবিমান। ওয়াশিংটনে শেষ হতে চলা, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ৭৫তম শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যেই এ তথ্য জানাল দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার দেয়া এ সংখ্যা বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এর আগে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরে ন্যাটোর আগ্রাসন রুখতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে গড়া ‘আসিয়ান’-কে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে ন্যাটো পৌঁছানোর বিরুদ্ধে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন আসিয়ানের।
ইসরাইলি বাহিনীতে তুর্কি নাগরিক, নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে সংসদে বিল