গোলান হচ্ছে দক্ষিণ পশ্চিম সিরিয়ার একটি মালভূমি। যার আয়তন প্রায় এক হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার। সিরিয়ার এই অঞ্চলটি ইসরাইলের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় থেকে ইসরাইল এটি দখল করে নেয়।
তখন থেকে একচেটিয়া দখল ধরে রাখতে ইসরাইল এ ভূখণ্ডটিতে বিপুল সৈন্য সমাবেশ ঘটায়। ইসরাইলের দখল করা গোলাম মালভূমিতে প্রায় ৩০টি বসতির মাধ্যমে ২০ হাজারের বেশি ইহুদি বসবাস করছে। এ ছাড়া এখানে প্রায় ২০ হাজার সিরিয়ান অধিবাসী বসবাস করে যাদের অধিকাংশই দ্রুজ সম্প্রদায়ের।
কৌশলগতভাবে সিরিয়া-ইসরাইল উভয়ের কাছেই এই গোলান মালভূমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার পুবে এর অবস্থান। গোলানের উঁচু স্থান থেকে সহজেই দামেস্কের উপরে নজর রাখা যায়। যা সিরিয়ার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ।
এ ছাড়া গোলান মালভূমি পানি সরবরাহের অন্যতম একটি উৎস। এখান থেকেই ইসরাইলে ব্যবহৃত মিঠা পানির তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ জোগান দেওয়া হয়। এটি একটি উর্বর ভূমি। তাই চাষাবাদের জন্যও বিশেষ উপযোগী। ফলে কৃষি অর্থনীতির জন্যও গোলান মালভূমির গুরুত্ব অনেক বেশি।
যে কোনো মূল্যে সিরিয়া গোলান সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট ছিল। ২০০৩ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ নদী চুক্তির উদ্যোগ নিলেও তা ভেস্তে যায়। ২০০৮ সালে তুরস্কের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা আবার শুরু হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে নেতানিয়াহু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হলে শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।
২০১১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিলেও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়াতে এ উদ্যোগও ব্যর্থ হয়।
তবে ২০১৯ সালের মার্চে গোলান মালভূমির ওপর 'ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও বাকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অঞ্চলটিকে সিরিয়ার হিসাবে বিবেচনা করে। তাই এ অঞ্চল নিয়ে ইসরাইলের সবসময় আরব দেশগুলোর সাথে উত্তেজনা থাকে।
গোলান মালভূমির চারটি গ্রামের মধ্যে মাজদাল শামস একটি, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার দ্রুজ জনগণ বসবাস করেন। ১৯৮১ সালে সিরিয়ার গোলান মালভূমি অধিভুক্ত করার সময় তাদের ইসরাইলি নাগরিকত্বের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন তারা তা ফিরিয়ে দেয়, ফলে তারা ইসরাইলে পড়াশোনা ও কাজ করতে পারলেও ভোট দিতে পারেন না। এ ভূখণ্ডটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।