গাজার দেইর আল বালাহ শহরের একটি স্কুলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া খান ইউনিসে শনিবার ইসরাইলের অন্য হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একইদিন হামলা চালানো হয়েছে আল বুরেইজ শরণার্থী শিবির, মিশর সীমান্তবর্তী রাফাহ শহর ও অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরেও।
যে স্কুল একসময় মুখরিত থাকতো শিশুদের কলকাকলিতে, সেখানেই আজ শোকের নিস্তব্ধতা। ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় শনিবার গাজার মধ্যাঞ্চলীয় দেইর আল বালাহ শহরের সৈয়দা খাদিজা স্কুলে শিশুসহ অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও শতাধিকের বেশি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা জানিনা কোথায় যাবো, এখানে কোন নিরাপদ জায়গা নেই। আমাদের একবার বলা হয় পূর্বে সরে যাও, আবার বলা হয় পশ্চিম দিকে যাও। আসলেই কই যাবি জানা নেই। স্কুল নিরাপদ নয়, তাঁবুর ভেতরে নিরাপদ নয়, এমন কী বাড়িও নিরাপদ নয়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা হামাসের একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। তবে দেইর আল বালাহ শহরের অধিকাংশ বাসিন্দাই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এছাড়া গাজার খান ইউনিসে শনিবার ইসরাইলের অন্য হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একইদিন আল বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। মিশর সীমান্তবর্তী শহর রাফাহতে আরেক হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন।
ইসরাইলি হামলা থেকে বাদ যায়নি ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরও। সেখানে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ১৭ ও ২৪ বছর বয়সী দুই তরুণ। আহত হয়েছে আরো ২৮ জন। শনিবার নাবলুস শহরের বালাতা শরণার্থী শিবিরে এ হামলা চালায় ইসরাইল। গাজায় ইসরাইলের অভিযান শুরুর পর পশ্চিমতীরে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে তেল আবিব।

এদিকে, গাজায় শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবেই গুলি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেখানে কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে এমন ৪৫ জন মার্কিন চিকিৎসক এবং নার্সদের একটি গ্রুপ।
তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে এ বিষয়ে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীদের ওই চিঠিতে অবরুদ্ধ উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
রকেট হামলায় ১২ ইসরাইলি নিহত