কেরালার ওয়ানাদ জেলায় প্রবল বৃষ্টিতে তিন দফা ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৩। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০০। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ জানিয়েছেন, ১১৬টি মৃতদেহের পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, সরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে আরও শতাধিক লোক আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, তাদের স্বজনদের সন্ধান এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি সূত্র অনুসারে, শুধু ওয়ানাদে তিন হাজার ৬৯ জনকে ৪৫টি ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পাঁচজন মন্ত্রীকে ত্রাণের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূমিধসের ঘটনায় কেরালায় দুই দিনে শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে অন্তত ৩০০ সদস্য মোতায়েন করেছে। এছাড়াও ১৪০ জনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) এবং সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য নৌবাহিনীর দল এবং হেলিকপ্টারগুলো একত্রিত করা হয়েছিল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকারী কুকুর দলগুলো ঘটনাস্থলে নামানো হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়টি আরও জানায়, কেরালা অঞ্চলে অবিরাম বর্ষণে অবরুদ্ধ রাস্তাগুলো ত্রাণ বিতরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। আর ওয়ানাদে চার ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ভূমিধস হয়।
এদিকে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়ানাদ এবং অন্য কয়েকটি জেলায় আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সতর্কতা জারি করা হয়েছে ইদুক্কি, ত্রিশুর, পালাক্কাদ, মালাপ্পুরম, কোঝিকোড়, ওয়েনাদ, কান্নুর এবং কাসারগোড জেলায়। চারটি জেলা কমলা সতর্কতার অধীনে রয়েছে। সেগুলো হলো- পাঠানামথিট্টা, আলাপ্পুঝা, কোট্টায়ম এবং এরনাকুলাম।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার সকালে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এলডিএফ সরকারকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বিজেপিপ্রধান জেপি নাড্ডাকে দলীয় কর্মীরা উদ্ধার কাজে সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই দুর্যোগে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ঘোষণা করেছে।
ভূমিধসে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, জলাশয়গুলো টইটম্বুর ও বহু গাছ উপড়ে গেছে। মুন্ডক্কাই, চুরামালা, আত্তামালা এবং নূলপুঝার মনোরম গ্রামগুলো অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং অনেকে সেখানে আটকা পড়েছে।