ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত এশিয়ার কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে সপ্তাহজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরো অন্তত ৪২ জন। শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩৪ জন। থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়াতেও বন্যায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গেলো কয়েকদিন থেকেই বন্যার পানিতে ডুবে আছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের বহু এলাকা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রায় অর্ধশত মানুষকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে বাড়িঘর ছেড়ে ছুটছেন হাজার হাজার পরিবার।
বন্যা-ভূমিধসের কারণে দ্বীপের অনেক অঞ্চলে রাস্তা-ঘাট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া বিদুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অঞ্চলগুলোতে সংযোগ স্বাভাবিক করার কাজও শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল থেকেই ধীরে ধীরে বন্যার পানি বাড়ছিলো। কিন্তু হঠাৎই পানি বেশি বেড়ে যেতে থাকায় জরুরি কাগজপত্র নিয়ে আমরা দোতলায় চলে আসি। কিন্তু আমাদের মজুত থাকা খাবার শেষের দিকে। তাই কিছু খাবার জোগাড় করে রাখার চেষ্টা করছি যেন আমরা নিরাপদ থাকতে পারি।
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহত এবং নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। এছাড়া হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার ভোরে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। এই সময় ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পাশাপাশি ভূমিধসও হয়েছে।
এরই মধ্যে, থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় বন্যার পানি কমতে থাকায় পুরো এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ১২ লাখেরও বেশি পরিবার এবং ৩৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩৫ বছরের মধ্যে এতো খারাপ বন্যা পরিস্থিতি কোনদিন দেখিনি। মানুষ বিপদে পড়ে যোগাযোগ করছে, আমরা সেখানে গিয়ে তাদের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারছি না। তার ওপর বড় নৌকা যেমন সরু রাস্তায় যায় না, অন্যদিকে ছোট নৌকা পানির এই স্রোত সামলাতে পারছে না। সব মিলিয়েই বিপত্তি বাড়ছে।
এদিকে, শুক্রবার মধ্যরাতে মালয়েশিয়ার স্থলভাগে আঘাত হানে ক্রান্তীয় ঝড় সেনইয়ার। এতে দেশটিতে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা গেছে। ঝড়টি এরপর থেকে দুর্বল হয়ে পড়লেও আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ এখনো ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কা করছে।
পাকিস্তানে মৃদু ভূমিকম্পে জনমনে আতঙ্ক