হাইফা বন্দরে যে কোনো মুহূর্তে ইরান-হিজবুল্লাহর হামলা, পালাচ্ছে ইসরাইলিরা

দখলদার ইসরাইলের হাইফা বন্দরে ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা যে কোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তেল আবিব। এ ফলে ইসরাইলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকা হারেৎজের এক প্রতিবেদনের বরাতে তেহরানভিত্তিক পার্সটুডে এসব কথা জানিয়েছে। 

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইফা এলাকায় বসবাসরত ইসরাইলিদের মনে মারাত্মক রকম ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। ওই এলাকায় অবস্থিত পেট্রো-কেমিক্যাল কারখানাগুলোতে হিজবুল্লাহ এবং ইরান হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় সতর্ক রয়েছে প্রসাসন। এসব পেট্রো-কেমিক্যাল কারখানায় বিপুল পরিমাণে দাহ্য পদার্থ রয়েছে। এই দুশ্চিন্তা হাইফা এলাকায় বসবাসরত ইসরাইলিদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। 

হাইফা এলাকায় বসবাসরত এক ব্যক্তি বলেন, আমরা বিস্ফোরকের ব্যারেলের ওপর বসে আছি এবং কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে আমরা খুবই ভীত-সন্ত্রস্ত। 

এদিকে ইসরাইলের পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাইফা বন্দর এলাকায় দেড় হাজার রকমের বিপজ্জনক উপাদানের উপস্থিতিরয়েছে, যার মধ্যে ৮০০ দাহ্য পদার্থ রয়েছে। ফলে যেকোনো হামলা পরিস্থিতিতে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। 

হামলার ভয়ে এরইমধ্যে ফিলিস্তিনের দখলকৃত বেশ কিছু এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে জায়নবাদীরা।  

নিহত হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া।

এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার অর্থাৎ ৩১ জুলাই ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

তেহরানে যে ভবনে তিনি অবস্থান করছিলেন, সেই ভবনে হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ইসমাইল হানিয়া ও তার একজন দেহরক্ষী নিহত হন।

ইরানের নবম প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তেহরানে অবস্থান করছিলেন হানিয়া।   

হানিয়া হত্যার বদলা নিতে ইরানে প্রতিশোধের লাল পতাকা।

হানিয়া হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত খবর জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ইসরাইলি শাসক গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ মদদে এবং ওয়াশিংটনে জো বাইডেন প্রশাসনের সবুজ সংকেতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সূত্রগুলো।

হামাস প্রধানের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, হানিয়াকে হত্যার অপরাধে দখলদার ইসরাইলকে কঠিন জবাব দেয়া হবে। হামাস প্রধানের রক্তের বদলা নেয়া আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি।

হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া হত্যার ঘটনায় ইরানের রাজধানী তেহরানের জামকারান মসজিদে ‘ইয়ালাসারাত আল-হুসেইন’ বা আল-হোসেইনের আঘাত লেখা লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে এই লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড, গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী, এমনকি ইরাকের সন্ত্রাস প্রতিরোধ আন্দোলন আইআরআই এ হত্যার নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলে হামলার হুমকি দিয়েছে।