ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইসরাইল বিষয়ে যে কোনো পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে আসা অথবা সমঝোতার চেষ্টা হলে আল্লাহর গজব নেমে আসবে। গত মাসে তেহরানে হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া নিহত হবার পর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন হুঁশিয়ারি এলো। খামেনি বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের বিষয়ে পিছপা হল আল্লাহর গজব পড়বে।
ইরানের নেতা খামেনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার জন্য চাপ সৃষ্টিতে তেল আবিব মনস্তাত্বিক যুদ্ধ পরিচালনা করছে।
৮৬ বছরের এই ইরানি নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, কোনো পশ্চাদপসরণ, তা সামরিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক হোক না কেন, কঠোর ঐশ্বরিক শাস্তিকে আমন্ত্রণ জানাবে।
খামেনি বলেছেন, যেসব সরকার আজকের দুনিয়ার প্রভাবশালী শক্তির কাছে নতিস্বীকার করে, তারা যদি তাদের জনগণের শক্তিকে আমলে নেয় ও প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে সুচারুভাবে মূল্যায়ন করে, তাহলে তারা এই জুলুম থেকে মুক্তি পেতে পারে। একইসঙ্গে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানকে দুর্বল করার জন্য মার্কিন, ব্রিটিশ ও ইসরাইলি প্রচেষ্টার ঐতিহাসিক উদাহরণ উল্লেখ করে শত্রুদের শক্তিকে অতিরঞ্জিত করার দীর্ঘস্থায়ী প্রবণতারও সমালোচনা করেন খামেনি।
হানিয়া হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়ার পরও ইরান দ্রুত কোনো প্রতিশোধ নেয়া থেকে বিরত রয়েছে। বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে কৌশলগত বিরতি হিসেবে দেখেছেন। ইরানের কর্মকর্তারা পশ্চিমের সংযমের আহবান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমাদের দ্বিচারিতার সমালোচনা করে বলেছে, যারা গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যা’ চোখে দেখে না, তারাই আবার সংযমের কথা বলে।
ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আয়াতুল্লাহ খামেনির এই কঠোর অবস্থানের সঙ্গে সম্মতি জানিয়েছেন। যদিও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ নিয়ে বাড়াবাড়ির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এসব প্রতিবেদন নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
ইসরাইল জানিয়ে দিয়েছে যে, তেহরানের পক্ষ থেকে যে কোনো সরাসরি আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেয়া হবে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা আমেরিকার ও ইউরোপের দেশগুলোকে দেশকে সতর্ক করেছেন, যে কোনো সময় ইরান ইসরাইলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে। এরপরই পশ্চিমারা ইরানকে যে কোনো ধরনের হামলা থেকে পিছু হটার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আসছে। কোন কোন দেশ ইরানের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আলোচনা শুরু করারও ইঙ্গিত দিয়েছে।