আর জি করে সিআইএসএফ মোতায়েনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি আন্দোলন প্রত্যাহার করে ভারতের চিকিৎসকদের কাজে ফিরতেও অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার আর জি কর মামলার শুনানিতে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এই নির্দেশ দেন। 

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা আর জি কর হাসপাতালে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছি। 

চিকিৎসকরা যাতে আবার কাজে ফিরতে পারেন, তাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।

দেশটির বিমানবন্দর ও কয়লা খনির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে সিআইএসএফ। এছাড়া ভোটের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বাহিনীটি।  

মঙ্গলবার এ মামলার শুনানিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিশ-প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে ‘মেয়েদের রাত দখল’ কর্মসূচি চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী আর জি করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, আমরা খুবই চিন্তিত। প্রতিবাদকারীদের বাধা দিতে বলপ্রয়োগ করে রাজ্য। আমরা কিছুতেই বুঝতে পারছি না, স্বাধীনতা দিবসের দিন রাজ্য কীভাবে হাসপাতাল ভাঙচুর করতে দিলো?

শুনানিতে চিকিৎসকদের পক্ষের আইনজীবীরাও আর জি করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান। তারা বলেন, গত ১৪ আগস্ট যে তাণ্ডব ঘটেছে, তারপর থেকেই হাসপাতালে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এসময় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, পুলিশ নিরাপত্তা দিতে না পেরে পালিয়ে গিয়েছিলো। তার পরই সলিসিটর জেনারেলকে আর জি করে পর্যাপ্ত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে বলেন প্রধান বিচারপতি।

এদিকে আর জি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এক্স হ্যান্ডলে কুণাল লেখেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীতে আপত্তি নেই তৃণমূলের। একইসঙ্গে আর জি করে হামলার নেপথ্যে ‘রাম-বাম আঁতাঁত’কেই দায়ী করেন তিনি। 

কুণাল জানান, রাম-বাম অপশক্তির প্ররোচনা, উসকানি যদি ওদের বাহিনী সামলাতে চায়, তবে তা সামলাক। তাতে তৃণমূলের কোনো আপত্তি নেই।

এর আগে গত সপ্তাহে আর জি কর মেডিকেল কলেজে এক শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসককে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের পর ওই চিকিৎসককে হত্যা করা হয়েছে।   

তৃণমূল সরকার এ ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে গড়িমসি শুরু করলে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের অধিকাংশ রাজ্যের মানুষ।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি পালনের ডাক দেয় ২০টির বেশি হাসপাতাল। কলকাতা ছাড়াও রাজধানী নয়াদিল্লি, মুম্বাই, কর্ণাটক ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্যেও বিক্ষোভ করেছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের পাশাপাশি রাস্তায় নেমে এসেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও রাজ্যের সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকেই এ ঘটনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করে রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগ করতে বলছেন। 

এ ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার মধ্যরাতে ‘মেয়েদের রাত দখল’ শীর্ষক কর্মসূচি ঘোষণা করে কলকাতাসহ পুরো পশ্চিমবঙ্গের নারীরা।

পুলিশের অভিযোগ, ওই কর্মসূচির মাঝেই আর জি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালানো হয়। জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টার, এইচসিসিইউ (হাইব্রিড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট), সিসিইউ (ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট), ওষুধের স্টোররুমেও চলে ভাঙচুর।