যুদ্ধবিরতিতে ব্যর্থ হলেই ইরান-হিজবুল্লাহর হামলা, উদ্বিগ্ন গ্যালান্ট

গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ব্যর্থ হলে ইরান এবং লেবাননভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরাইলে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জায়নবাদী যুদ্ধমন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন। 

ইসরাইলের চ্যানেল-টুয়েলভের বরাতে মঙ্গলবার এসব কথা জানিয়েছে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে।    

গ্যালান্ট অভিযোগ করে বলেন, নেতানিয়াহু সবসময় গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ অব্যাহত রাখা এবং যুদ্ধবিরতি বাধাগ্রস্ত করার বিষয়ে তার নিজস্ব নীতি অনুসরণ করে চলেছেন। 

জায়নবাদী যুদ্ধমন্ত্রী এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির জন্য চলতি সপ্তাহের শেষে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরের কায়রোতে আবার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

জায়নবাদী যুদ্ধমন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট (বাঁয়ে)।

পাশাপাশি নেতানিয়াহুকে মন্ত্রিসভায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলোর সাথে চুক্তির লক্ষ্যে একটি খসড়া উপস্থাপন করতে বলেছেন গ্যালান্ট। তবে তার প্রস্তাবকে পাত্তা দেননি নেতানিয়াহু।  

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরাইল মেনে নিয়েছে; এখন হামাসকে একই কাজ করতে হবে। 

যদিও এর আগে, যুদ্ধবিরতির ‘নতুন শর্তগুলো’ ইসরাইলের পক্ষ থেকে এসেছে এমন অভিযোগ করে হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা উপস্থাপিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় বর্ণিত শর্তগুলো তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হামাসের সামনে যেসব শর্ত রাখা হয়েছে সেগুলো হলো- মিশর সীমান্ত বরাবর গাজায় ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি, ইসরাইলি জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি জিম্মিদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তেল আবিবের ভেটো দেয়ার অধিকার এবং কিছু ফিলিস্তিনি জিম্মিকে গাজায় ফেরত না পাঠিয়ে বরং অন্যত্র নির্বাসন দেয়া। 

গেলো মে মাসেও বাইডেন যুদ্ধবিরতির যে রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র তা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিগত কয়েক মাসের আলোচনাতেও যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে একমত হতে পারেনি হামাস ও ইসরাইল। 

একদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও অন্যদিকে ঠিকই গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইল।   

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও স্থল হামলা চলছে। এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। আহত লাখ ছাড়িয়েছে।