সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কায় তেল আবিবে ২৪০ বোমা শেল্টার চালু

সিনিয়র কমান্ডার ফুয়াদ শুকুর হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে শতাধিক রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালিয়েছে লেবাননভিত্তিক প্রতিরোধকামী আন্দোলন হিজবুল্লাহ। প্রত্যুত্তরে লেবাননে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালায় ইসরাইল। পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে প্রতিবেশী এই দুই দেশ। এমন পরিস্থিতিতে সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কায় রাজধানী তেল আবিবে ২৪০টি বোমা শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে ইসরাইল। 

তেল আবিবের মেয়র অফিসের বরাতে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দৈনিক হারেৎজ ও রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

মেয়র অফিস জানিয়েছে, ইসরাইলের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের আদেশে তেল আবিবের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্র সৈকত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং পাবলিক ইভেন্টগুলো বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী শহরে ২৪০টি বোমা শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

যেকোনো মুহূর্তে হিজবুল্লাহ হাজার হাজার রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে তেল আবিবে হামলা চালাবে বলে আশঙ্কা ইসরাইলের। 

তেল আবিবের একটি বোমা শেল্টার।

মেয়রের উপদেষ্টা ইলানা মাইকেলি জানান, প্রয়োজনে ভূগর্ভস্থ পার্কিং লটগুলোকে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

চলমান এ সংঘাত যেকোনো সময় যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, এ ভয়ে ইসরাইল সীমান্ত অঞ্চল ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার দখলদার। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। 

এর আগে গেলো ৩০ জুলাই হিজবুল্লাহর সিনিয়র কমান্ডার ফুয়াদ শুকুরকে হত্যা করে ইসরাইল। তার জবাবে রোববার সকালে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে শতাধিক রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। প্রত্যুত্তরে লেবাননে হামলা চালায় ইসরাইল। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সূত্রগুলো। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে গেলো দশ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে এটি সবচেয়ে বড় সংঘর্ষগুলোর একটি। 

এক বিবৃতিতে লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘোষণা করেছে যে, এই চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযান শেষ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে এবং একইসঙ্গে জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে।

তবে পরবর্তী হামলা কখন এবং কীভাবে হবে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি সংগঠনটি।