দখলদার ইসরাইলের অধিকৃত অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননভিত্তিক প্রতিরোধকামী আন্দোলন হিজবুল্লাহ। এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরাইল। ভয়ে ইসরাইল সীমান্ত অঞ্চল ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার দখলদার। অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের হিজবুল্লাহ পরিচালিত এলাকা থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এই দুই দেশ।
জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা প্রশমনে ও শত্রুতা নিরসনে উভয়পক্ষকে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব।
এদিকে দুপক্ষের মধ্যকার সংঘাত বৃদ্ধি হওয়া প্রতিহত করতে হোয়াইট হাউজ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, লেবাননের ইসলামিক প্রতিরোধ ঘোষণা করেছে যে, রোববার তারা হিজবুল্লাহর অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার ফুয়াদ শুকুর হত্যার প্রতিক্রিয়ায় তাদের অভিযানের প্রথম পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
ইরানভিত্তিক পার্সটুডে বলছে, প্রথম পর্যায়ে ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি এবং ব্যারাকগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

এর আগে গেলো ৩০ জুলাই হিজবুল্লাহর সিনিয়র কমান্ডার ফুয়াদ শুকুরকে হত্যা করে ইসরাইল। তার জবাবে রোববার সকালে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে শতাধিক রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। প্রত্যুত্তরে লেবাননে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান দিয়ে আক্রমণ করে ইসরাইল। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সূত্রগুলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে গেলো দশ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে এটি সবচেয়ে বড় সংঘর্ষগুলোর একটি।
এক বিবৃতিতে লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘোষণা করেছে যে, এই চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযান শেষ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে এবং একইসঙ্গে জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে।

হিজবুল্লাহ আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা জায়নবাদী শাসকদের পক্ষ থেকে আসা যে কোনো আগ্রাসনের জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে যদি বেসামরিক ব্যক্তিদের কোনো ক্ষতি করা হয় সে ক্ষেত্রে শাস্তি হবে আরও কঠোর এবং বেদনাদায়ক।
ইরান সমর্থিত সংগঠনটির ঘোষণা অনুযায়ী, এই অভিযানে মিরন ঘাঁটি, নাফি জিফ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চ প্যাড, জাতুন ঘাঁটি এবং আল-জাওরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্যাডসহ ইসরাইলের ১১টি ব্যারাক এবং ঘাঁটিতে ৩২০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়াও, প্রথম পর্যায়ে অধিকৃত সিরিয়ার গোলানের কিলা ব্যারাক, ইয়োফ ব্যারাক এবং নাফাহ ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এ অভিযানকে সফল উল্লেখ করে হিজবুল্লাহ বলছে, ফুয়াদ শুকুরের হত্যার বিরুদ্ধে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ নির্ভুলতা এবং সাফল্যের সাথে পরিচালিত হয়েছে।

অধিকৃত অঞ্চলে হিজবুল্লাহর হামলার পর ইসরাইলি সরকার অন্তত পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অধিকৃত অঞ্চল জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সাময়িক বন্ধ ছিলো বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরও। কর্তৃপক্ষ এই বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি নাহারিয়া থেকে রিশোন লেটজিওন পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
প্যালেস্টাইন ক্রনিকলসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলা ও তার ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে করেছে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু সরকার একটি সেন্সরশিপ ডিক্রি জারি করেছে যার মাধ্যমে ইসরাইলি বাহিনীর ক্ষতির কথা গোপন করার চেষ্টা করছে তেল আবিব।
জারি করা ডিক্রিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের অবকাঠামো বা সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলার ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করার আগে সাংবাদিকদের অবশ্যই তেল আবিবের অনুমতি নিতে হবে।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইরাক, ইরান, লেবানন, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
টেলিগ্রাম অ্যাপের মালিক গ্রেপ্তার