এফ-১৬ বিধ্বস্ত, চাকরি হারালেন ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর প্রধান

রুশ হামলায় মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের জেরে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর কমান্ডার (প্রধান) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিকোলা ওলেশচুককে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। 

এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে বিমান বাহিনীর কমান্ডারকে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয় শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারি করে মিকোলা ওলেশচুককে অপসারণ করে। তবে এ বিষয়ে কিয়েভ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।  

ইউক্রেনে এ সুপারসনিক ফাইটারের প্রথম চালান পৌঁছানোর মাত্র এক মাসের মাথায় প্রথম এফ-১৬ ধ্বংসের সংবাদ সামনে এলো। যা ইউক্রেন এবং ন্যাটো সামরিক জোটের জন্য একটি বড় ধাক্কা। প্রায় দুই বছর ধরে লাগাতার আবেদন করার পর, ন্যাটো মিত্রদের কাছ থেকে সম্প্রতি কিছু ফাইটার পায় কিয়েভ। 

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪ বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে গেলো সোমবার সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে প্রায় ১০০ বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ও শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। ওই হামলায় ধ্বংস হয় যুদ্ধবিমানটি। 

এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডস থেকে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচের চালান ইউক্রেনে স্থানান্তর শুরু হয়। ন্যাটোর ৭৫তম শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। 

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের শুরু থেকেই, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছিলো ইউক্রেন। স্থানান্তরের আগে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান চালানোর প্রশিক্ষণও দেয়া হয় ইউক্রেনীয় পাইলটদের। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের বিভিন্ন ঘাঁটিতে চলে সেই প্রশিক্ষণ।  

তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন শুরু থেকেই এ বিষয়ে ন্যাটোকে পরিষ্কার বার্ত দিয়ে আসছেন।

চলতি বছর পুতিন এক ঘোষণায় বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে এফ-১৬ ফাইটার জেট সরবরাহ করলেও এই বিমানটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না। তবে এই ফাইটার জেটগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে এবং মস্কোকে তার সামরিক পরিকল্পনায় এটি বিবেচনায় রাখতে হবে।

পোল্যান্ড, বাল্টিক রাজ্য বা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ন্যাটোর কোনো দেশ রাশিয়া আক্রমণ করবে না এমন নিশ্চয়তা দিয়ে পুতিন বলেন, তবে পশ্চিমারা ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য যোদ্ধা সরবরাহ করলে সে বিমান অবশ্যই গুলি করে ধ্বংস করবে রুশ বাহিনী। এটা নাৎসি ইউক্রেন ও ন্যাটো হালকাভাবে নিলে ভুল করবে। 

পুতিনের এমন হুঁশিয়ারির পর ইউক্রেনে এফ-১৬ সরবরাহ স্থগিত করেছিলো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। তবে পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে জোটটি।