ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ এক নতুন মোড় নিয়েছে। গত রোববার রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি বন্দর প্রিমর্স্কে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় বন্দরটিতে সাময়িকভাবে আগুন ধরে যায় বলে জানান লেলিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজডিনকো।
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই এলাকায় গত রাতে অন্তত ৬০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে, প্রিমর্স্ক বন্দরে লাগা আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেনি।

রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানি গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত প্রিমর্স্ক বন্দর দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের ক্ষমতা রাখে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাধীন শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর থেকে কিয়েভ রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে আঘাত হানার কৌশল গ্রহণ করেছে।
একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তাদের বাহিনী কৃষ্ণসাগরের নভোরোসিস্ক বন্দর প্রবেশপথে রাশিয়ার দুটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের তেল ট্যাঙ্কারে সফল হামলা চালিয়েছে। এই ট্যাঙ্কারগুলো রাশিয়ার তেল পরিবহনে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হতো। জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেন সমুদ্র, আকাশ এবং স্থল, সব পথেই তাদের দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে।
ড্রোনের এই ঢেউ কেবল সামরিক বা শিল্প লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় একটি গ্রামে ড্রোন হামলায় ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা চারটি ড্রোন মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া স্মোলেনস্ক অঞ্চলে একটি আবাসিক ব্লকে ড্রোন আছড়ে পড়ায় এক শিশুসহ তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেন ড্রোন হামলা বাড়ালেও ইউক্রেনের পূর্ব রণাঙ্গনে রুশ বাহিনী তাদের চাপ বজায় রেখেছে। ইউক্রেনের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, দোনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্ক প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্টিয়ান্তিনিভকার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে রুশ সৈন্যরা।
সব মিলিয়ে রাশিয়ার তেল রপ্তানি রুটগুলো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের এই ব্যাপক ড্রোন হামলা যুদ্ধের তীব্রতা ও অর্থনৈতিক সংঘাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আকাশপথে ইউক্রেনের এই আক্রমণ মোকাবিলা করা এখন ক্রেমলিনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
